advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া শপথ নেবেন না বিএনপির বিজয়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দলের বিজয়ীরা শপথ নেবেন না বলে স্পষ্ট করে বলেছেন বিএনপি নেতারা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে দলের স্থায়ী কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি ফিরবে না বলে জানান নেতারা।

বিএনপি নেতারা বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বেশি অবদান। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাও খালেদা জিয়া। তার মতো নেতার জন্য প্যারোল, এটা মশকরা। খালেদা জিয়ার চারপাশে সৎ ও সাহসী লোক না থাকার কারণেই সরকার আজ প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়া আজ কারারুদ্ধ। তিনি শিগগির ফিরে আসবেন। তার ফেরা মানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা।

advertisement

‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানের বিএনপি নেতারা গতকাল শুক্রবার এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শত নাগরিক কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়। বইটির সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। ২ হাজার টাকার টাকা মূল্যের ১২ জন লেখকের লেখাসংবলিত ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামল, রাজনীতির সুদীর্ঘ পথপরিক্রমা ও নানা চড়াই-উতরাই সংগ্রাম ও দূরদর্শিতার গল্প উঠে এসেছে।

সূচনা বক্তব্যে ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বইটি বিক্রি করে যে অর্থ হবে, তা নেব না। এ দিয়ে আমরা একটি ফাউন্ডেশন করব। সংসদে শপথ করা না করার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনো কথাই বলেননি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশ হবেন না। জনগণের দল হিসেবে বিএনপি প্রতিটি সংকটের মুহূর্তে উঠে দাঁড়িয়েছে। নেত্রী জেলে থাকুন আর বাইরে থাকুন, তিনিই আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনিই গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ সিদ্ধান্ত আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিয়েছি। এটাও বলা আছে, এটা (সিদ্ধান্ত) তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে। সুতরাং এ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টা এখানেই নিষ্পত্তি হওয়ার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কারণ এর প্রয়োজন নেই। এ সময় মওদুদ ২০০৯ সালে সিট বণ্টনসহ জাতীয় সংসদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মতামত দেন। তিনি বলেন, তখন আমাদের মাত্র ২৭টা আসন। তখন তারা বলেছিল, আপনারা পার্লামেন্টে আসুন, আমরা আপনাদের সম্মান দেখাব, সব কিছু করব, প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন। কিন্তু তা করেননি। এই সংকীর্ণমনা দলের কাছ থেকে কোনো রকমের সহনশীলতা, কোনো রকমের রাজনৈতিক শিষ্টাচার আমাদের প্রত্যাশা করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।

দল থেকে নির্বাচিতদের শপথ ও তাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, আজকে একটা নির্বাচন নাকি কী হয়েছে আপনারা সবাই জানেন। আমার দৃষ্টিতে এই তিনশ আসনে কেউ জয়লাভ করেনি, এই তিনশ আসনে কেউ পরাজিত হয়নি। জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে জনগণ। সেই জনগণ যখন শতভাগ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি, সেই নির্বাচনে নির্বাচিত বলার সুযোগ নেই। আমাদের যারা জয়লাভ করেছেন যারা বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে না। কারণ জনগণ ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা শুনি নির্বাচিতরা বলেন, জনগণের ইচ্ছা। কিন্তু তাদের মধ্যে শুনলাম না এ কথা, অবৈধ সরকারের বৈধকরণের প্রক্রিয়ায় আমরা পার্লামেন্টে যাব না। দল কী করবে সেটা পরের কথা। আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থাকবে এটা পছন্দ করব কি করব না। দল যদি করে তারা সংসদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এটাও কিন্তু খালেদা জিয়ার জন্য ভালো সংবাদ বলে আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, আশা করেছিলাম নির্বাচিতরা বলবেন, দল বললে আমরা যাব, অন্যথায় যাব না; খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে সংসদে যাব, অন্যথায় যাব না, এই কথাগুলো শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা শুনছি না। উঁকি-ঝুঁকি মারছে নানা চোরাগলি পথ দিয়ে নানা কথা। কোন কথা সত্য কোন কথা মিথ্যা জানি না। তিনি বলেন, তাদের কাপড়চোপড়ও প্রস্তুত রয়েছে। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি খালেদা জিয়ার মতো জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে ঠাট্টা ও মশকরা ছাড়া কিছুই নয়। আর এ ধরনের অসঙ্গতি প্রস্তাব সরকারের কাছ থেকে আসতে পারে না এবং আসবে না। নেতাকর্মীদের খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন হওয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর।

গয়েশ্বর আরও বলেন, আগেও বলেছি, আজও বলছি, খালেদা জিয়া তার চারপাশে নির্ভীক, সৎ, সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। এই কারণে আমরা চলমান সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছি। আর সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের এই অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র মুক্ত করতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, লন্ডন-আমেরিকা থেকে আদেশে দল চালানো যাবে না। স্থানীয় আদেশে দল চালাতে দিতে হবে।

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, ‘শত নাগরিক কমিটি’র জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্রন্থের সূচনায় লেখক আবদুল হাই শিকদারের লেখা ‘খালেদা জ্যোতির্ময়ী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন কবি নাসিম আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, কৃষিবিদ জিকে মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, গৌতম চক্রবর্তী, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শফিউল বারী বাবু, সেলিম রেজা হাবিব, মীর নেওয়াজ আলী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায়চৌধুরী, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।