advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আলো জ্বলেনি সোয়া ২ কোটি টাকার সৌরবাতিতে

সানাউল হক সানী
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:৫৫

রাজধানীর সড়কগুলোয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সৌরবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক অবস্থায় এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল কয়েকটি সড়কে। ওই সব সড়কে লাগানো সৌরবাতিতে আলোই জ্বলেনি। পরে সেখানে নতুন করে লাগানো হয় এলইডি বাতি। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন গচ্ছা দিয়েছে সোয়া ২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এলইডি বাতি লাগানো হলেও ওই সড়কের সৌর প্যানেলগুলো খুলে নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবাতির প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ থেকে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত সড়কে।

এ প্রকল্প সফল হলে পরবর্তী সময়ে আরামবাগ, বাংলামোটর, গুলশান, হাতিরঝিল, নাবিস্কো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তা স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের ফল পর্যালোচনার আগেই বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হয়। সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক বাস্তবায়িত কাকরাইল-নটরডেম কলেজ প্রকল্পে ৬১টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছিল। প্রতিটি পোস্টের ওপর বসানো হয় সাড়ে ৫ ফুট আয়তনের এক জোড়া সোলার প্যানেল।

৬১ পোলে মোট ১২২টি বাতির এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তবে দরপত্রে সর্বনিম্ন ২ কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ টাকার দরদাতা পাওয়ায় পুরো টাকার আর প্রয়োজন হয়নি। নগর ভবন সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ নিতে ২১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। তবে কাজ পায় এলাইক সোলার এনার্জি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বব্যাংক এ কাজের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শতকরা ৪৩ ভাগ কম রেটে দরপত্র জমা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেলেও মানের দিক থেকে তা খুব ভালো ছিল না বলে নগর ভবনের বিদ্যুৎ সার্কেলের কর্মকর্তারা জানান।

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পে বরাদ্দের অর্ধেক টাকায় দরপত্র পাওয়ায় নিম্নমানের জিনিসপত্র ব্যবহার করে। প্যানেলের বাতিগুলো ছিল মাত্র ৬০ ওয়াটের। অথচ এ সড়কে আগের সোডিয়াম বাতিগুলো ছিল ১৫০ ওয়াটের। এ ছাড়া সোলার প্যানেল খুব নিম্নমানের হওয়ায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন বা কয়েকদিন বৃষ্টি হলে আর আলো পাওয়া যেত না।

পরে চাহিদামতো আলো পাওয়ায় এ প্রকল্পকে ‘ব্যর্থ’ অভিহিত করে সৌর বাতির পাশাপাশি এলইডি বাতি লাগানো হয়। সূত্র জানায়, সড়কে সৌরবাতি লাগানোর কিছু দিন যেতে না যেতেই প্রয়োজনীয় আলো পাওয়া যেত না। রাস্তা অন্ধকারই থাকত। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের অনুরোধে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি অপসারণ না করেই সেখানে বসানো হয় এলইডি বাতি। এলইডি বাতির পোলগুলোর ওপরে এখনও রয়েছে সৌর প্যানেল। সিটি কপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্যানেলগুলো খুলে নিয়ে সিটি করপোরেশন অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারে।

এতে করপোরেশনের কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ খরচ কমবে। করপোরেশন যদি অতি অল্প সময়ের মধ্যে কাজটি না করে তা হলে কোটি টাকা মূল্যের এসব প্যানেল বিকল হয়ে পড়বে। সংস্থার বিদ্যুৎ সার্কেল থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনাও পেশ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের মাধ্যমে সৌর প্যানেলগুলো সড়কে স্থাপন করায় সেখান থেকে খুলে নিয়ে তা অন্য কাজে ব্যবহারে জটিলতা দেখছে সংস্থাটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

এ জন্য ফাইলটি অনুমোদন করা হচ্ছে না। নগর ভবনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। কর্পোরেশনের অর্থ খরচ করে এটি অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। সৌর প্যানেল ও পোল ভেঙে দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কথাও বলছেন তিনি। প্রকল্পে বলা হয়, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলো সংরক্ষণ করে রাজধানীর সড়কে বাতিগুলো জ্বলবে। এতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে না।

পরিবেশবান্ধব প্রকল্পটি নগরীর সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি কর্পোরেশনের খরচও কমাবে। কিন্তু প্রকল্পটি স্থাপনের পর থেকেই বাতিগুলোতে স্বল্প আলো, বারবার নষ্ট হওয়া, সামান্য ঝড়ে পোলগুলো ভেঙে পড়া, প্যানেলে ময়লা জমে থাকাসহ নানা ত্রুটি ধরা পড়ে। অথচ এসব বিষয়ে বুয়েট থেকে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। বুয়েটও তখন প্রকল্পটির পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মাহতাব হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে করা হয়েছিল। তবে সফলতা আসেনি। তাই সেখানে এলইডি বাতি লাগানো হয়েছে।