advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুদকারবারি নায়েব আলীর ফাঁদে ফতুর ১৫ ব্যক্তি

মাগুরা প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:২৯

নায়েব আলী। মাগুরা সদর উপজেলার গোয়ালবাথান গ্রামের ‘নামকরা’ একজন সুদকারবারি। তার সুদের ফাঁদে ফতুর হয়েছেন অনেকে। চক্রবৃদ্ধি হারের এই সুদাসল পরিশোধ করতে উপায়ান্তর না পেয়ে বসতবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন অন্তত ১৫ জন।

সর্বশেষ তার এ মহাজনি সুদের জাল থেকে বেরোনোর উপায় না পেয়ে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন রামাদারগাতি গ্রামের সুব্রত প্রামাণিক (৩৫) নামে এক সবজি বিক্রতা। আর এ ঘটনায় নায়েব আলীকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

সুব্রত প্রামাণিকের স্ত্রী পূর্ণিমা প্রামাণিক জানান, তার স্বামী নায়েব আলীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। যার বিপরীতে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার টাকা সুদ দিতে হতো নায়েবকে। গত কয়েক সপ্তাহে সুদের টাকা শোধ দিতে না পারায় সুব্রতের কাছ থেকে বসতভিটা লিখে নেন নায়েব। পাশাপাশি সুদে-আসলে মিলিয়ে আরও তিন লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে বলে নায়েব দাবি করেন।

এ টাকা আদায়ের জন্য তিনি সুব্রতকে ক্রমাগতভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুব্রতের কাছে থাকা কিছু টাকা কেড়ে নেন নায়েব; যে টাকা নিয়ে সুব্রত মাগুরা পাইকারি কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে সবজি কিনে এনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে তিনি কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করেতেন। শেষ সম্বল হিসেবে থাকা ওই টাকা কেড়ে নেওয়ার পর দিশেহারা হয়ে সুব্রত কীটনাশক পান করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মারা যান তিনি। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হকসহ স্থানীয়রা জানান, কারবারি নায়েব আলীর সুদের ফাঁদে পড়ে সঞ্জয় দাস, সনজিৎত দাস, বাবলু মোল্যা, ডাবলু মোল্যাসহ গত পাঁচ বছরে বসতবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন অন্তত ১৫ জন। তার সর্বশেষ শিকার সুব্রত প্রামাণিক সুদের জাল থেকে মুক্তি পেতে বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ।

তারা এ ঘটনায় সুদকারবারি নায়েবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, সুব্রতের স্ত্রী পূর্ণিমা প্রামাণিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সুদকারবারি নায়েবকে আটক করা হয়েছে। সুব্রতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।