advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এক দিনেই পানিতে ডুবে সাত শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইল,নোয়াখালী ও টঙ্গী প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৭

অভিভাবকদের অসাবধানতায় গতকাল শুক্রবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, নোয়াখালীর চৌমুহনী, গাজীপুরের টঙ্গী ও পঞ্চগড়ে পানিতে ডুবে অকাল-মৃত্যু হয়েছে সাত শিশুর। নদী ও পুকুরে গোসল করতে গিয়ে তারা মারা যায়। চারটি ঘটনাই ঘটে জুমার নামাজের সময়।

এক দিনে পানিতে ডুবে সাত শিশুর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া; আহাজারি শুরু হয়েছে স্বজনদের মাঝে। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের রিতু (৫) ও ছোয়া (৬) বাড়ির সবার অজান্তে দুপুরে যমুনা নদীতে গোসল করতে যায়। অভিভাবকরা তাদের না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে যমুনা নদীতে একজনের লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। সেই লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে অপর শিশুর লাশটি পাওয়া যায় যমুনায়। রিতু ওই গ্রামের মোহনের মেয়ে ও ছোয়া সুমনের মেয়ে। দুজন সম্পর্কে চাচাতো বোন।

advertisement

ভূঞাপুর থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্য ও অভিভাবকদের অবহেলায় ওই এলাকায় যমুনা নদীতে ডুবে প্রতিবছরই কিছুসংখ্যক শিশু মারা যায়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার ডেল্টা জুট মিলের আবাসিক এলাকার একটি পুকুরে জুমার নামাজের সময় গোসল করতে যায় জুট মিল কলোনির বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিমুতিক গ্রামের সাইফুল ইসলামের পুত্র ইয়াছিন (৬) ও চৌমুহনী পৌর এলাকার গানিপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (৫)। তারা সম্পর্কে মামাত-ফুফাত ভাই বোন।

গোসল করতে করতে তারা পানিতে ডুবে যায়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা পুকুরে ভাসতে দেখে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুর মৃত্যুতে তাদের মায়েদের আর্তনাদে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠেছে। চৌমুহনী ফাঁড়ির পুলিশ লাশ দুটি তাদের জিম্মায় নেয়। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃত দুই শিশুর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে তিনি জানান, লাশ আপাতত পুলিশের জিম্মায় থাকবে। স্বজনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে দুই শিশুর মৃত্যু পানিতে ডুবেই হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হবে। টঙ্গীর দক্ষিণ আউচপাড়া বটতলা এলাকার একটি পুকুরে জুমার নামাজের সময় গোসল করতে যায় মামুনুর রশিদ (১০) ও টুনি আক্তার (৮) দুই শিক্ষার্থী। তারা ঘাটে বসেই গোসল করছিল। এক পর্যায়ে তাদের ঘাটে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরে নেমে দুজনের লাশ পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী অলিউর রহমান অলি জানান, মামুনুর রশিদ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রগুনাথপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। টুনি আক্তার নেত্রকোনা জেলার জাহাঙ্গীর আলমের কন্যা। মোফাজ্জল ও জাহাঙ্গীর পুকুরের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকাসংলগ্ন করতোয়া নদীতে জুমার নামাজের সময় গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যায় রিফাত (৮) নামে এক শিক্ষার্থী।

সে ওই এলাকার জাফরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় হান্নান শেখ শিক্ষা নিকেতনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। স্বজনরা জানান, রিফাতসহ কয়েক শিশু বাড়ির পাশের করতোয়া নদীতে গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে রিফাত নিখোঁজ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নদীতে তার লাশ ভেসে ওঠে। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।