advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

১০ কোটি টাকার রিটার্নিং ওয়ালে দুই মাসের মধ্যেই ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:২৫

কুমিল্লায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে রিটার্নিং ওয়ালের একটি অংশ। গতকাল শুক্রবার বিকালে নগরীর নোয়াগাঁও চৌমুহনী থেকে বেলতলী সড়কের নোয়াগাঁও রেলগেটের পূর্ব অংশে প্রায় দুইশ মিটার রিটার্নিং ওয়াল খালে ধসে পড়ে। বাকি অংশও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১০ কোটি টাকাই গচ্চা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নির্দেশে কুসিকের প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেনÑ কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ ও কুসিক ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান।

কুসিক সূত্র জানায়, নগরীর নবাববাড়ি চৌমুহনী থকে নোয়াগাঁও হয়ে বেলতলী ব্রিজ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রিটার্নিং ওয়ালের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমসিএইচএল এবং হক এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজটি করেছে। নির্মাণকাজে ত্রুটি ও নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে রিটার্নিং ওয়ালের নোয়াগাঁও চৌমুহনী থেকে বেলতলী সড়কের নোয়াগাঁও রেলগেটের পূর্ব অংশে প্রায় দুইশ মিটার খালে ধসে পড়ে বলে জনগণ দাবি করছে। এ অংশটির নির্মাণ ব্যয় দেড় কোটি টাকা বলে জানা গেছে। ওয়ালের বাকি অংশও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন নগরবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাইর থেকে দেখতে দৃষ্টিনন্দন হলেও নির্মাণকাজটি যথেষ্ট নি¤œমানের এবং যাচ্ছেতাইভাবে করা হয়েছে। নোয়াগাঁও থেকে বেলতলী পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় এ রিটার্নিং ওয়ালের কোথাও কোথাও বাঁকা ও ফাটল দৃশ্যমান আছে। কুসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া বলেন, এমসিএইচএল এবং হক এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে। আমি ঢাকায় আছি। বিষয়টি জেনেছি। ধসে পড়া স্থানটি দেড়শ ফুট হতে পারে। ওই এলাকার কাজটি পুরো কাজের একটি আলাদা অংশ। ধসে পড়া কাজের সঙ্গে পুরো কাজের গুণগত মানের তুলনা করা যাবে না।

প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তবে কী কারণে ওয়ালটি ধসে পড়েছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ধসে পড়ার পর কুসিকের প্রকৌশলীরা ওই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে রেললাইন নির্মাণের ভারি যানবাহনের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করছি। বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।