advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জেলেদের হামলায় অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তা আহত

চাঁদপুর প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:৪৭

চাঁদপুরের মেঘনায় জাটকাবিরোধী ভ্রাম্যমাণ অভিযান চলাকালে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে জেলেরা। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আহত হয়েছেন।

নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জাটকাবিরোধী ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের কাটাখালী ও সাইলুরের ছাই ফ্যাক্টরি এলাকায় অভিযানে অংশ নেওয়া টিমের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায় জেলেরা।

তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে আত্মরক্ষার্থে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট ও এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। জেলেদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এদিকে চাঁদপুরের মেঘনায় মাছ ধরার অপরাধে ১৭ জেলেকে জেল-জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদের মধ্যে ১৩ জনকে এক বছর করে কারাদ- ও বাকি চারজনকে বয়স বিবেচনায় অর্থদ- দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল ইসলাম এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেনÑ দিদার (১৯), দেলু ছৈয়াল (২৮), জাকির (১৮), মাসুম (২৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), তাজুল ইসলাম (২৩), শাহীন (২৫), রোমান (১৯), নাজির বেপারী (২৫), আ. হান্নান খান (৩০), আবুল বাসার (২৫) ও সুজন হোসেন (২৮)।

হামলা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, জেলা টাস্কফোর্স প্রতিদিনই অভয়াশ্রম মৌসুমে জাটকা রক্ষায় অভিযান চালায়। কিন্তু গতকাল রাতে অভিযানের সময় হামলাকারী জেলেদের ইটের আঘাতে মৎস্য কর্মকর্তার মাথা ও আমার গলা থেঁতলে যায়। তবে ইলিশ রক্ষায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুর নৌফাঁড়ির ইনচার্জ আবু তাহের বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টানা অভিযানে পদ্মা ও মেঘনা নদীর মিনি কক্সবাজার খ্যাত পর্যটন স্পট, গোয়ালিয়ার চর, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী পুরো এলাকা, শরীয়তপুর সীমান্ত সংলগ্ন কাটাখালী, সাইলুরের ছাই ফ্যাক্টরি এলাকা, আনন্দবাজার, টিলাবাড়ী এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালাই।

এ সময় ৬৩টি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা আটক করে ব্যবহারের অনুপযোগী করা হয়। এ ছাড়াও ৫টি মাছের আড়ত ও আটক পৌনে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে জব্দ করা এক মণ জাটকা গরিব ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন চাঁদপুর নৌথানার ওসি আবু তাহের, কোস্টগার্ড কমান্ডার আবদুল মালেক, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা।