advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে

২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৯

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এর প্রাকৃতিক বিন্যাস, ভূসংস্থান ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য একে দুর্যোগপ্রবণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের দেশ করে তুলেছে। শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট দুর্যোগেও বাংলাদেশ সামনের সারিতে অবস্থান করছে। তবে সঙ্গে সঙ্গে এটিও স্বীকার করতে হবে, দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। সরকার ২০০৯ সাল থেকে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করে।

তবে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আশার কথা হলো, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের (এনডিএমসি) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫-৩০-এর দুর্যোগ সম্পর্কিত ধাপগুলো বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

সরকার ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। এর পরও আমাদের অনেক করণীয় আছে। বিশেষত মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালাতে হবে। আর ভুলে গেলে চলবে না, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোয় আরও বেশি জলোচ্ছ্বাস, প্লাবন, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দুনিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহ বাড়ছে। এতে বাংলাদেশের মতো ঘনবসতি ও অনুন্নত অবকাঠামোর দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু সাইক্লোন নয়, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের দিক দিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। তাই আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে আশ্রয়কেন্দ্র ও উন্নত করতে হবে দুর্যোগ পূর্বাভাসের প্রচারব্যবস্থা।