advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আড়াইহাজারে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে প্রতারণা

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩১

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মোবাইল ক্লোন করে চাঁদাবাজির চেষ্টার পর এবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর, সিল নকল করে অভিনব প্রতারণা করছে জালিয়াত চক্র।

এ ঘটনায় কাজী শাজাহান ও ইসমাইল ভূইয়া সাকেরসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার উপজেলা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বরাত দিয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, নরসিংদীর মাধবদী থানার কান্দাইল এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে কাজী শাজাহান। তিনি দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও মৌজাস্থিত এসএ ৩৮৮, আরএস ১২১৯ খতিয়ানের এসএ ২০৮ ও আরএস ৫৯৪ ও ৫৯৫নং দাগের ২৫ শতক সম্পত্তির জালদলিল দাখিল করে নামজারি করেন। এর বিরুদ্ধে ওই এলাকার আবুল হাসিম মিস মোকদ্দমা নং- ৪০৮/২০১৮ দায়ের করলে দীর্ঘ শুনানির পর গত ২ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কাজী শাজাহানের নামজারি বাতিল করে জমির প্রকৃত মালিক আবুল হাসিমের পক্ষে নামজারি নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন ভূমি কর্মকর্তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ভূমি অফিস ত্যাগ করেন শাজাহান।

পরবর্তীতে প্রাক্তন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানুল হক ও বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের স্বাক্ষর জাল ও নকল সিল তৈরি করে ছয়টি নকল হাজিরা নোটিশের কপি তৈরি করে স্থানীয় সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। সাবেক এসিল্যান্ড রেজওয়ানুল হক গত ১ নভেম্বর বদলির কারণে আড়াইহাজার উপজেলা থেকে নারায়ণগঞ্জ সদরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন।

অথচ ৬ নভেম্বর তার স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে প্রতারক শাহজাহান একটি হাজিরা সিট তৈরি করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা কপিগুলো নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের সঙ্গে আলোচনা করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। ভূমি অফিসের নথি চেক করে তিনি দেখতে পান কাজী শাজাহানের কাছ থেকে সরবরাহ করা সাংবাদিকদের কাছে থাকা নথি ও হাজিরা নোটিশে স্বাক্ষর ও সিল নকল, যাতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স জানান, কাজী সাজাহান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন সাকের জালদলিলকে খাটি হিসেবে ব্যবহার করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা করছিল। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা দক্ষতার সহিত তার জালদলিল ধরে ফেলায় তার প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে তিনি এসিল্যান্ডসহ ভূমি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান, জাল হাজিরা সিট তৈরি করে ভূমি অফিসের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এ জন্য প্রতারক দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, প্রতারক কাজী শাজাহান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন সাকেরসহ প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। এদিকে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত ছয়টি হাজিরা সিটকে সঠিক দাবি করে ইসমাইল হোসেন সাকের বলেন, তিনি আইনগতভাবে মামলার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।