advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাবনার নগরবাড়ীতে নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বেড়া প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৩

পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার বসন্তপুর গ্রামে গতকাল শুক্রবার সকালে রাজিয়া খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মৃতদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের সামাদ সেখের স্ত্রী।

গ্রামের বিবদমান দুটি গ্রুপ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকা- দাবি পরস্পরকে দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে ময়নাতদন্তের আগে হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

advertisement

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নগরবাড়ী এলাকার বসন্তপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) প্রভাব বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রভাবশালী দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এদের এক পক্ষে রয়েছেন উপজেলার জাতসাখিনী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ, আর অপরপক্ষে রয়েছেন রুস্তম আলী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের বিরোধ চলে আসছে।

ওই সংঘর্ষে ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশের পক্ষের লোক হিসেবে নিহত বৃদ্ধার ছেলে সাইদুল অংশ নেয়। সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষ ও পুলিশি অভিযানের ভয়ে সে বাড়ি থেকে আত্মগোপন করে। সারারাত সে বাড়ি ছিল না। এরই মধ্যে সকালে তার মায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এতে তার গ্রুপের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তারা অভিযোগ করে জানান, প্রতিহিংসাবসত রুস্তম আলী গ্রুপের লোকজন বৃদ্ধার ছেলে সাইদুলকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষকে দায়ী করে সকাল ১০টার দিকে নগরবাড়ী ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এর কিছু সময় পর এ বৃৃদ্ধার ছেলে সাইদুলকে নিজেদের গ্রুপের বলে দাবি করেন রুস্তম আলী গ্রুপের লোকজন। তারা এটাকে ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ গ্রুপের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকা- বলে দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ জানান, ২-৩ দিন আগে রুস্তম গ্রুপের লোকজন ওই বৃদ্ধা মহিলাসহ কয়েকজনের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে আমিনপুর থানায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। আমিনপুর থানার ওসি (তদন্ত) এসএম মঈন উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান হয়েছে। তিনি জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।