advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাজেটে বরাদ্দ বৈষম্য কাটাতে হবে

আব্দুল্লাহ কাফি ও গোলাম রাব্বানী
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:৪০

দৈনিক আমাদের সময় কার্যালয়ে র্ডপ ও দৈনিক আমাদের সময়ের যৌথ আয়োজনে ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্যাশা ও করণীয় : এসডিজি-৬ এবং ৮ম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আমাদের সময়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবীর ও র্ডপ-এর পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের পরিচালক যোবায়ের হাসান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ সবার জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ও সবার জীবাণুমুক্ত জীবনের পাশাপাশি নারীস্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে কোন অনুপাতে জনগণ নিরাপদ পানি ব্যবহারের বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে সে দিকে নজর রাখতে হবে। শুধু পানের জন্য নয়Ñ সেচকাজ, পানির সরবরাহ, দূষিত পানি পরিশোধনসহ সব দিকেই নজর রাখতে হবে। এ জন্য রাখতে হবে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি ও কাজের মধ্যে সমন্বয়। কাজের সমন্বয়ের ফলেই এর সফলতা নির্ভর করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী বাজেট হতে যাচ্ছে নির্বাচনপরবর্তী প্রথম বাজেট।

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১-এর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করা হবে। পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও জীবাণুমুক্ত (ওয়াশ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ওয়াশ প্রকল্পের বাস্তবায়নে নানা ধরনের কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন স্থাপনে যথেষ্ট ইতিবাচক।

ইতোমধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘ওয়াশ’ সংক্রান্ত এসডিজি ৬-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার বেশি সুযোগ পাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাজেটে ‘ওয়াশ’ প্রকল্পে আলাদা বরাদ্দ নিরূপণ করা কঠিন।

‘ওয়াশের’ বাজেট ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা হবে ৪ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের মোট ১৫.৩২ শতাংশ ‘ওয়াশ’ খাতে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়াবে ১৫.৩০ শতাংশ। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৫.৩১ শতাংশ হবে।

তবে ‘ওয়াশ’ প্রকল্পে ওয়াসার উন্নয়ন বাজেটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৫.৭৪ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৬.৬২ শতাংশ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৬.৬২ শতাংশ হবে। এ খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শহরের জন্য ৮৩.৭২ শতাংশ এবং গ্রামের জন্য ১৬.২৮ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ আছে, যা ২০২০-২১ সাল নাগাদ শহরের জন্য হবে ৮৪.৬৯ ও গ্রামের জন্য ১৫.৩১ শতাংশ।

ফলে যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চল ওয়াসার আওতায় নেই সে এলাকায় উন্নয়নের সম্ভাবনা কম থেকে যায়। ওয়াশ খাতে মাথাপিছু মাত্র ২৭৪ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যদি নিরাপদ পানি সরবরাহ হয় তা হলে পানিবাহিত রোগ কমে যাবে। এ ছাড়া মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৮৭ শতাংশ নিরাপদ পানি ব্যবহার করে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ লোক এখনো নিরাপদ পানি ব্যবহার করছে না। ২০১৫ সালে ইউনিসেফ ও ডব্লিওএইচওর মতে, ৬১ শতাংশ নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবহার করে। তবে বিবিএসের মতে এর সংখ্যা ৭৭ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কমপক্ষে ৩ কোটি ২০ লাখ লোক নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবহার করছে না। শহরে বরাদ্দ বেশি থাকলেও গ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ খাতে বরাদ্দ অনেক কম।

এমনকি শহরের সিটি কর্পোরেশনের মধ্যেও বরাদ্দে বৈষম্য লক্ষ করা যায়। ‘ওয়াশ’-এর এ সমস্যাগুলো স্থানীয়দের উদ্ভাবন ও সঠিক ব্যবহারের মধ্যে নিরূপণ করা সম্ভব।