advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কারচুপি ঠেকাতে সব নির্বাচন ইভিএমে

আসাদুর রহমান
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:২৯

কারচুপি ঠেকাতে আগামী সব নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সদ্যসমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে ইসি কঠোর মনোভাব পোষণ করলেও পুরোপুরি সফল হয়নি।

আগের রাতে ব্যালটে সিল মারাসহ নানা অনিয়মের কারণে বেশ কয়েকটি উপজেলায় ও কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। অনিয়মের দায়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আটকের ঘটনাও ঘটে। এসব রোধে আধুনিক যন্ত্রে ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৫ মে অনুষ্ঠেয় ময়মনসিংহ সিটির সব ক’টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এ ছাড়া আগামীতে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার চিন্তা করছে ইসি। ভোটে অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে উপজেলা নির্বাচনের কর্মকর্তা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মশালায় সিইসি নূরুল হুদা বলেন, কারা দায়ী, তাদের কী করা যাবে, সেই দীক্ষা-শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা-যোগ্যতা কমিশনের নেই এবং সেভাবে বলারও সুযোগ নেই; কী কারণে হচ্ছে, কাদের কারণে হচ্ছে, কারা দায়ী।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সংস্কৃতির পরিবর্তন আসবে আশা করি। আগামীতে ভোটে ইভিএম শুরু করে দেব, তা হলে সেখানে আর রাতে বাক্সভর্তি করার সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোট ঠেকাতে ব্যবহার করতে হচ্ছে ইভিএম মেশিন। ইভিএম ব্যবহারের ফলে একদিকে দ্রুত ভোটের ফল ঘোষণা করা যায়; অন্যদিকে সম্পন্ন করা যায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মানুষের বুদ্ধি যেমন দিন দিন বাড়ছে, তেমনি নির্বাচন কমিশনেরও বুদ্ধি বাড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আনতে হচ্ছে ইভিএমের মতো মেশিন। তিনি বলেন, রাঙামাটিতে যদি ইভিএম ব্যবহার করা হতো, তা হলে হয়তো আটটি মানুষের প্রাণ হারাতে হতো না। ইভিএমের মাধ্যমে দ্রুত ফল ঘোষণা করে সূর্য ডোবার আগেই তারা ফিরে আসতে পারত। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম দূর করতে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর একটি হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। এ জন্য আমরা সকালে ব্যালট ইউনিট (ইভিএম) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

যেসব কেন্দ্র খুব কাছাকাছি, সেসব কেন্দ্রে সকালে ব্যালট ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই ইভিএম ব্যবহারের চিন্তাভাবনা আছে। সেখানে ব্যালট ইউনিটগুলো সকালে পাঠাব এবং সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সদ্যসমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন কেন্দ্রে আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ পেয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। এ ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

এ ছাড়া জালভোট দেওয়ার সময় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। পরে তাকে আটক করা হয়। এমন সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতে সিল মারা বন্ধে ইভিএমে ঝুঁকছে ইসি। ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, রাতে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। কয়েকটি জায়গায় এমন ঘটনার প্রমাণও পেয়েছে কমিশন।

আসলে কমিশনের একার পক্ষে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ অসম্ভব। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সার্বিক বিবেচনায় রাতে যাতে সিল মারা রোধ এবং যার ভোট সে দিতে পারে, এসব বিবেচনায় সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা করছে ইসি।

আগামী বছর অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচন পুরোপুরি ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সেটা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সেখানেও ইভিএমে ভোটগ্রহণের চিন্তা চলছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ ইভিএম থাকলেও সেটি পরিচালনায় দক্ষ জনবল সংকট রয়েছে। ইসির নিজস্ব জনবল নেই।

প্রকল্পের লোক দিয়ে ইভিএম পরিচালনা করতে হয়। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম পরিচালনায় সেনাসদস্য মোতায়েন করে ইসি। জানা গেছে, বর্তমানে ইভিএম তদারকির দায়িত্ব পালন করছে ইসির অধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ)। আগামী জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর পর জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা নিশ্চিতে পাঁচ বছরমেয়াদি একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় আড়াই হাজার লোকবল চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে তারা এনআইডির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইভিএম পরিচালনায় যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ইসিও প্রায় দুই হাজার লোকবল নিয়োগ দেবে বলে জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। সে সময় ইভিএম পরিচালনার জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করে ইসি।