advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ৭০ শতাংশ সুন্দরীর বীজ

কামরুজ্জামান জসিম,মোংলা থেকে
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:১৬

জলবায়ু পরিবর্তনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্বের একমাত্র বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে। দূষিত হচ্ছে মাটি ও বাতাস। ক্রমাগত কমছে উপকূলের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত সুন্দরী গাছ। নষ্ট হচ্ছে এ গাছের ৭০ শতাংশ বীজ। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুলেও।

বর্তমানে সুন্দরবন লাগোয়া পশুর নদীর এক লিটার পানিতে মাছের পোনা পাওয়া যায় এক হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৪০০-এর মতো, যেখানে ২০১০ সালের আগে পাওয়া যেত সাত হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত। এমনকি মোংলাবন্দরের শিল্প-কারখানা এলাকার পশুর নদীতে ঘণ্টায় সাত থেকে আটটি ডলফিন ভাসতে দেখা যায়, যেখানে কারখানা নেই এমন এলাকায় ভাসে ১৫ থেকে ১৭টি।

গতকাল শনিবার মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে এক মতবিনিময়ে এ তথ্য তুলে ধরেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাট জেলার সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট বিভাগের প্রফেসর নাজমুল সাদাদ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর সালমা বেগম, খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মনজুর মোর্শেদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আয়োজনে মতবিনিময়সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানান ক্ষতির দিক তুলে ধরে বক্তারা জানান, জলজ পরিবেশের খাদ্যচক্র ভেঙে পড়ায় ব্যাঙের রেণুর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। শিল্প এলাকার বাতাস দূষিত হওয়ায় তাতে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ক্ষুদ্র বস্তু কণার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবনে উল্লেখযোগ্য কোনো পাখি দেখা যায় না, এমনকি নদীতে মাছও হারিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বনের মধ্যে উজানের নদী থেকে মিষ্টিপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, সরকার ঘোষিত ন্যাশনাল অয়েল স্পিল অ্যান্ড কেমিক্যাল কন্টিজেন্সি প্ল্যান বাস্তবায়নসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে আটটি সুপারিশ তুলে ধরেন বক্তারা।

সেই সঙ্গে সুন্দরবন ধ্বংস ঠেকাতে ফারাক্কা ব্যারেজ, নদীপ্রবাহ বিনষ্ট, পানিপ্রবাহ হ্রাস, চিংড়ি চাষ, বৃক্ষনিধন, প্রাণীনিধন, মাছনিধন, বনে অগ্নিসংযোগ, বনের মধ্যে অতিরিক্ত নৌ চলাচল বন্ধ করা; অতিরিক্ত ড্রেজিং এবং বন ও পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বন্ধেরও জোর সুপারিশ করেন তারা। এ সময় মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সুন্দরবনকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার মোংলাবন্দরকে আবার জীবন দিয়েছে। কথা দিচ্ছি সুন্দরবনকেও বাঁচাবে।’