advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রী চাইলে মেয়র হব আবদুচ ছালাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২২

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম আগামীতেও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যাশা জানিয়ে বলেছেন, ‘কাজ করার সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাব। আগামীতে মেয়র হব নাকি অন্য দায়িত্ব পালন করব, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রীর) সিদ্ধান্তের ওপর। রাজনীতিতে নিজের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে সবকিছু হয় না।’

টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন শেষে আগামী ২৩ এপ্রিল বিদায় নিচ্ছেন তিনি। আর সেই চেয়ারে বসছেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম দোভাষ ডলপিন। বিদায়ের প্রাক্কালে গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর জিইসি মোড়ে নিজ মালিকানাধীন আবাসিক তারকা হোটেল ওয়েল পার্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী মতবিনিময়ে এসেছিলেন আবদুচ ছালাম। সেখানেই নিজের আকাক্সক্ষার কথা জানান। সিডিএর ৫০ বছরের ইতিহাসে নিজেকে প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান দাবি করে আবদুচ ছালাম বলেন, ‘১০ বছরে আমি প্রমাণ করেছি, এ পদে আমাকে বেছে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভুল করেননি।’

advertisement

তিনি এ সময় নিজের বাস্তবায়ন করা প্রকল্পগুলোর বর্ণনা দেন। বলেন, ‘চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম একটি বিশ্বমানের পর্যটন ও বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এই অর্থ সম্পাদক বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার স্বপ্ন ছিল এমপি হওয়ার। এ জন্য আমি যুদ্ধ করেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সিডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সিডিএতে আমি অনভিজ্ঞ ছিলাম, কাউকে চিনতামও না। তবে আমি আমার কাজে সফল হয়েছি। আমার জীবনে ব্যর্থ বলে কোনো শব্দ নেই।’

চট্টগ্রামের মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখেন কিনা, জানতে চাইলে আবদুচ ছালাম বলেন, ‘মানুষ যতদিন বাঁচে ততদিন স্বপ্ন দেখে। আমি সিডিএ চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। কিন্তু ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সুযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন যে দায়িত্ব পাব, সেই দায়িত্ব পালন করে যাব। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কোনো পদ পাওয়া যায় না। আমি মেয়র হব কিনা নেত্রীর ওপর নির্ভর করছে। সুযোগ এলে আলহামদুলিল্লাহ, সুযোগ না এলেও আলহামদুলিল্লাহ। আমার কোনো বেদনা নেই।’

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আবদুচ ছালাম। কিন্তু আসনটি তখন জাসদের মঈন উদ্দিন খান বাদলকে ছেড়ে দেয় তার দল। পরবর্তী দুই নির্বাচনেও সেই আসনে বাদলই আওয়ামী জোটের প্রার্থী ও এমপি হন। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার তোড়জোড়ও শুরু করেছিলেন ছালাম। কিন্তু দলের সমর্থন পেয়ে মেয়র হন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। দলের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত আবদুচ ছালাম ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল সিডিএ চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন। এর পর তার মেয়াদ ছয়বার বাড়ানো হয়। যদিও বর্তমান আইনে এক ব্যক্তির ছয় বছরের বেশি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদে থাকার সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনকালে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন, বিশ্বমানের পর্যটন শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন বলে আবদুচ ছালাম মতবিনিময়সভায় জানান।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি সংস্থা কাজ করছে। এগুলো হচ্ছেÑ ডিসিএ, সিটি করপোরেশন, সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে চলতি বছরও মহানগরী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে না। এ সমস্যার সমাধান হতে লাগবে আরও তিন-চার বছর।’

নতুন চেয়ারম্যানের প্রশংসা করে আবদুচ ছালাম বলেন, ‘তিনি একজন সজ্জন ও সৎ মানুষ। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যিনি শুরু করেন, তার পক্ষে সব কাজ শেষ করে যাওয়া সম্ভব হয় না।’ মতবিনিময়ের শেষদিকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জেনে না জেনে আপনাদের হয়তো অনেক কষ্ট দিয়েছি। হাতজোড় করে বলছিÑ আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার সব কর্মকাণ্ড ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিডিএর বোর্ড সদস্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ও হাসান মুরাদ বিপ্লব, স্থপতি আশিক ইমরান, কেবিএম শাহজাহান, জসিম উদ্দিন শাহ, এমআর আজিম প্রমুখ।