advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোজার আগেই পেঁয়াজের ঝাঁজ বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এখনই কঠোর হোন

২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:১৬

প্রতিবছর রমজান শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তার পরও কাজ হয়নি, বরং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েই চলেছে পণ্যের দাম।

বিশেষ করে রমজানে বেশি চাহিদা থাকা পেঁয়াজের দাম ইতোমধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিক টন। ব্যবসায়ীদের মতে তা প্রায় ২৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন। অর্থাৎ মাত্র ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করলেই চাহিদা পূরণ হয়।

তার পরও আমদানির জটিলতা দেখিয়েই দাম বাড়ানো হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিবারই অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অনেক ব্যবসায়ী দ্রব্যপণ্য মজুদ করে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। তা ছাড়া সরকারের সার্বিক পরিকল্পনার অভাবও আমাদের বাজারের অস্বাভাবিক আচরণের বড় কারণ। সংকট সৃষ্টি হলে তখনই চিন্তা করা হয়, আপাতত এই সংকট কীভাবে কাটানো যাবে। সামগ্রিকভাবে নীতিকৌশলভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় না। আর প্রতিবছর এ-ও দেখে আসছি, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পর সরকারের তৎপরতা শুরু হলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে মাঝরোজায় দাম স্বাভাবিক করার কথা বলে বাড়ানো দামের কিছুটা কমানো হয়।

এভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে। বিষয়গুলো এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট। ফলে জনস্বার্থে রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনই অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারক দলগুলোকে সব সময় কঠোর নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে।