advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সোয়া ২ কোটি টাকার সড়কবাতি ফল পর্যালোচনার আগেই কেন বাস্তবায়ন

২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫১

কথায় বলে সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল। এমন কথাই সত্য হয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সৌরবাতির প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাজধানীর সড়কগুলোয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সৌরবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক অবস্থায় এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল কয়েকটি সড়কে। ওইসব সড়কে লাগানো সৌরবাতিতে আলোই জ্বলেনি। পরে সেখানে নতুন করে লাগানো হয় এলইডি বাতি। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন গচ্চা দিয়েছে সোয়া ২ কোটি টাকা। এ প্রকল্প সফল হলে পরবর্তী সময়ে আরামবাগ, বাংলামোটর, গুলশান, হাতিরঝিল, নাবিস্কো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তা স্থাপনের কথা ছিল। মূলত এ প্রকল্প কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা খতিয়ে দেখা হয়নি। প্রকল্পের ফল পর্যালোচনার আগেই তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পে বরাদ্দের অর্ধেক টাকায় দরপত্র পাওয়ায় নিম্নমানের জিনিসপত্র ব্যবহার করে। প্যানেলের বাতিগুলো ছিল মাত্র ৬০ ওয়াটের। অথচ এ সড়কে আগের সোডিয়াম বাতিগুলো ছিল ১৫০ ওয়াটের। এ ছাড়া সোলার প্যানেল খুব নিম্নমানের হওয়ায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন বা কয়েকদিন বৃষ্টি হলে আর আলো পাওয়া যেত না। এ কথা সত্য, জরুরি প্রয়োজনে সমস্যা সমাধানের জন্য কখনো কখনো দ্রুত সময়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ জন্য সরকারি কাজের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা দরকার।

তবে সৌর সড়কবাতির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, কেন এত তড়িঘড়ি করে এত টাকা গচ্চা দেওয়া হলো? সেটা কার স্বার্থে? সরকারি কাজে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। ভালো কাজের পুরস্কার ও মন্দ কাজের তিরস্কার বা শাস্তি না থাকলে সরকারের কোনো কর্মসূচির ফল সাধারণ মানুষ পাবে না।