advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুদের কারবারির বিচার ভুক্তভোগী ১০ গ্রামবাসী

মাগুরা প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫৩

অবৈধ সুদ-কারবারির বিচার দাবিতে গতকাল শনিবার মাগুরার সদর উপজেলার রামদারগাতি, গোয়ালবাথান, রাজাপুর, দীঘলকান্দি, জোকা, গোপাল গ্রামসহ ১০ গ্রামের কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষ রাস্তায় নেমে মানববন্ধন, বিক্ষোভ করেছে। সুদের ফাঁদে পড়ে সুব্রত নামে এক সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে তারা গতকাল শনিবার রাস্তায় নেমে এ বিক্ষোভ করে।

নায়েব আলী স্থানীয়ভাবে সুদের মহাজন ও দাদন ব্যবসায়ী বলে চিহ্নিত। বিক্ষোভকারীরা জানায়, নায়েব আলী মাসিক ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সুদে বিভিন্ন দরিদ্র লোককে টাকা ঋণ দিয়ে ফাঁদে ফেলেছে। মানুষের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সে টাকা লগ্নি করে। পরে প্রতি সপ্তাহে শতকরা ১০ থেকে ১২ টাকা হারে সুদ নেয়। সুদের টাকা দিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার নায়েব রামদারগাতি গ্রামের সুব্রত প্রামাণিক নামে এক কৃষককে ‘টাকা দিতে না পারলে বিষপান করে মরে যা’, এমন কথা বলে

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুব্রত নায়েবের কাছ থেকে বিষ কেনার জন্য ১০০ টাকা নেয়, যা দিয়ে সত্যি সত্যি বিষ কিনে পান করে আত্মহত্যা করে সুব্রত। এ ছাড়া নায়েব আলীর সুদ পরিশোধ করতে না পেরে ডাবলু মোল্যা, সঞ্জয় দাসসহ অন্তত ২৫ জন কৃষিজীবী মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এদিকে সুব্রতের মৃত্যুর ঘটনায় সদর থানাপুলিশ এখনো মামলা নেয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও বিক্ষোভকারীরা।

তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নায়েবকে আটক করা হয়েছে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম মামলা নেওয়ার ব্যাপারে জানান, সুব্রতের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সুদ গ্রহণ সম্পূর্ণ অবৈধ, সে কারণে নায়েব আলীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।