advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুমিল্লায় দেড় মণ ধানের মূল্যে একজন কৃষিশ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫৩

কুমিল্লায় কৃষিশ্রমিকের অভাবে বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তিন বেলা ভাত খাইয়ে একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে ছয় থেকে সাতশ টাকা। শ্রমিক সংকট তীব্র হওয়ায় এমন মজুরি দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। কুমিল্লা অঞ্চলে স্থানীয় কোনো কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায় না।

উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও সিলেট থেকে কৃষিশ্রমিক এসে কাজ করছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়ের জন্য একজন শ্রমিককে সাতশ টাকা দিতে হচ্ছে, যা দেড় মণ ধানের মূল্যের সমান। পাশাপাশি তিন বেলা খাওয়ানো ছাড়াও দিতে হয় পান-সুপারি ও চা-সিগারেট।

মনোহরগঞ্জের ধিকচান্দা গ্রামের কৃষক বিন্দু বিহারী দাস বলেন, ‘কামলা (কৃষিশ্রমিক) রাখতে হলে তিন বেলা খাওয়ানো, পান-সুপারি, আসা-যাওয়ার খরচ ও বিকালের চায়ের খরচ দিতে হয়। আর ছয়শ থেকে সাতশ টাকা মজুরি দেওন লাগে। এমনে গিরস্থি কইরা কি অইব। ধানের দাম চারশ থাকি পাঁচশ টাকা মণ। আর কামলার রোজ ছয়শ থেকে সাতশ। কোনোভাবেই ক্ষেত-গিরস্থির হিসাব মেলানো যায় না। একই গ্রামের কিষানি রাধা রানী দাস বলেন, ‘কামলার রোজ বেশি, তাই বাড়ির পোলাপানদের স্কুল বাদ দিয়া ধান কাটতে লইয়া আইছি। কামলা অত দর দিলে ক্ষেতের ধান আর বাড়িত নেওন যাইত না, হাওরেই সব দেওন লাগব।’

একই উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের হরমুজ আলী বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে দ্বিগুণ-তিনগুণ মজুরি দিয়ে কামলা রাখতে হচ্ছে। মতিন্দ্র দাস বলেন, ‘ধান কাটার মেশিন বাইর হইছে হুনছি, কিন্তু দেখি নাই। সরকার যদি সহজশর্তে ঋণ দিয়ে কৃষকের জন্য ধান কাটার মেশিনের ব্যবস্থা করত, তা হলে এত বিপদে পড়ত না কৃষক।