advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মেডিক্যাল অফিসার মারুফার খুনি পেশাদার চোর মহসিন

বরিশাল প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ১১:৩৪

বরিশাল মেট্রোপলিটনের বিমানবন্দর থানাধীন কাশিপুর এলাকায় মেডিক্যাল অফিসার মারুফা খুন হন পেশাদার চোরের হাতে। সেই পেশাদার খুনি পিরোজপুরের খানাকুনিয়ারী এলাকার মো. মোস্তফা শেখের ছেলে মো. মহসিন শেখ।

হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম থেকে। সে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। গতকাল শনিবার বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রহমান মুকুল এ তথ্য জানান। মারুফা বিমানবন্দর থানাধীন কাশিপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার স্বামী জহুরুল হায়দার চৌধুরী পন প্রগতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে সহকারী ব্যবস্থাপক (উন্নয়ন) হিসেবে ঢাকার মিরপুর শাখায় চাকরি করতেন। তারা নিঃসন্তান দম্পতি ছিলেন। মারুফা চাকরির সুবাদে বরিশালের লুৎফর রহমান সড়কে বহুতল একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ঘাতক মহসিনের বর্ণনার বরাত দিয়ে ওসি (তদন্ত) আবদুর রহমান মুকুল জানান, মহসিন ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি ভোলা থেকে বরিশাল নগরে এসে রূপাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেন।

চুরির উদ্দেশে ওই দিন দিনেরবেলা মারুফার বাসা ও আশপাশ ঘুরে দেখেন। রাত আনুমানিক ১টার পর পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে মারুফার ফ্ল্যাটের পার্শ্ববর্তী ভবনের ছাদে শাবল নিয়ে অবস্থান নেন। সেই ছাদ থেকে চুরি করার উদ্দেশ্যে মারুফার ফ্ল্যাটের বেলকনিতে প্রবেশ করেন। বেলকনির দরজা খোলা থাকায় তিনি ফ্ল্যাটে ঢুকে মারুফার বিছানার পাশে শাবল রেখে চেয়ারের ওপরে থাকা ভেনিটিব্যাগ নিয়ে বেলকনি দিয়ে পাশের বাসার ছাদে চলে যান।

ভেনিটিব্যাগ তল্লাশি করে ৪০ টাকা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফের মহসিন মারুফার বাসায় প্রবেশ করে খোলা অবস্থায় থাকা স্টিলের আলমারি তল্লাশি শুরু করেন। শব্দ পেয়ে মারুফা জেগে উঠে চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকলে মহসিন শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।

সঙ্গে সঙ্গে মারুফা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মারুফার গোঙানি আর রক্ত দেখে মহসিন দ্রুত বেলকনি দিয়ে পাশের ভবনের ছাদে চলে যান। সেখানে নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনে ফজরের আজান পর্যন্ত অবস্থান করেন।

তার পর আজানের সময় ওই ভবন থেকে নেমে লঞ্চে করে ভোলা চলে যান। এদিকে প্রতিদিনের মতো ৩০ সেপ্টেম্বর (ঘটনার পরের দিন) সকালে জহুরুল হায়দার চৌধুরী স্বপন তার স্ত্রী মারুফাকে ঘুম থেকে ওঠানোর জন্য মোবাইলে ফোন দেন।

স্ত্রী ফোন রিসিভ না করায় বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে থানাপুলিশের সহায়তায় ফ্ল্যাটটি খুলে মারুফাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হত্যাকা-ের দীর্ঘ ছয় মাস পর বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম মুন্সী মারুফার ঘাতক মহসিনকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে ১৭ এপ্রিল আটক করেন।