advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নবাবগঞ্জের ছত্রপুর খাল সংযোগ সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে সেতু

মো. নাজমুল হোসেন,দোহার-নবাবগঞ্জ
২১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ১০:০৩

সংযোগ সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ছত্রপুর খালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি। দুপাশে মাটি না থাকায় সেতুটি স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হৃদিম কনস্ট্রাকশন ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। সেতুটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে কান্দাবাড়িল্যা, বড় বাড়িল্যা, বাড়িল্যা, নবগ্রাম, কুমার বাড়িল্যাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ সহজে পার্শ্ববর্তী বাস্তা ও দোহার এলাকায় যেতে পারবে।

কলেজছাত্র মো. মিরাজ জানান, সেতুটি নির্মাণে খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তাই যদি না থাকে, সেতু দিয়ে লাভ কি। বারুয়াখালী ইউনিয়নের মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, সংযোগ সড়ক ছাড়া সেতু নির্মাণ জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া আর কিছু না। তিনি সেতুটি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন। কুমার বাড়িল্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা রানী ম-ল বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুলে আসতে চায় না। রাস্তাটি হওয়া খুব জরুরি। স্থানীয় চাকরিজীবী আজাদ বলেন, সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে, অথচ এখানে সেতু আছে, সড়ক নেই। যার কারণে সেতুটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ঠিকাদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান শিকদার বলেন, ব্রিজটি এখনো হ্যান্ডওভার করা হয়নি। আশা করছি, খুব শিগগির সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। ঠিকাদার জাহাঙ্গীর চোকদার জানান, সেতুটি নির্মাণকালে খালে পানি চলে আসায় দুপাশে মাটি ভরাট করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। তিনি আরও জানান, কাজের বিপরীতে সম্পূর্ণ বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার সাগর হোসেন সৈকত জানান, তিনি উপজেলায় নতুন এসেছেন। এসেই এ ধরনের ৮/১০টি সেতুর মাটি ভরাটের কাজ শেষ করেছেন। ছত্রপুর খালের সেতুর মাটি ভরাটের বিষয়টি কয়েকদিন আগে জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।