advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘ধর্ষককে’ আড়াল করতে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর সঙ্গে অন্য যুবকের বিয়ে

আবদুল হক লিটন,হালুয়াঘাট
২১ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:৩৪ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৯ ১২:৪০

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ‘ধর্ষককে’ আড়াল করতে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর সঙ্গে অন্য যুবকের বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাফেজ ইলিয়াস নামের এক যুবককে থানায় ডেকে নিয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ওই কিশোরী একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে এক নির্দোষ ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

advertisement

আজ রোববার আদালত মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার ভুক্তভোগী ওই কিশোরী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় কসমেটিকস দোকান মালিক আলাল মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়ে। সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে আলাল তার দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করতেন। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে আলালকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।

আলাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কিশোরী তার গর্ভে থাকা সন্তানের পিতৃ-পরিচয়ের দাবিতে হালুয়াঘাট থানায় অভিযোগ করে। এতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য তাছলিমা বেগম হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপজেলার বাউশা গ্রামের হাফেজ ইলিয়াসকে থানায় ধরে নিয়ে এসে তার সঙ্গে বিয়ে দেন।

এ বিষয়ে ইলিয়াস বলেন, ‘আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত না থেকেও অন্যের সন্তানসহ আমাকে বিয়ে করতে হলো। আমাকে থানা হাজতের ভয় দেখিয়ে বিয়েতে রাজি করান ওসি সাহেব। এতে আমার মানহানিসহ অর্থনৈতিক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম বলেন, ‘থানায় এই কিশোরীর বিয়েতে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আমার বিরুদ্ধে এসব আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। কিশোরী ও উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে।’

এ বিষয়ে মামলার এক নম্বর আসামি আলালকে প্রশ্ন করলে তিনি ধর্ষণের বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং অন্তঃসত্ত্বা এই কিশোরীর সঙ্গে কোনো সর্ম্পক ছিল না বলে দাবি করেন।

ওসি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি থানায় ছিলাম। অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীর কথা মতোই হাফেজ ইলিয়াসের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।’