advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এখনো অর্ধেক শ্রমিক বেকার, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ১১:৩৪
advertisement

ছয় বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে। এ দিনটির কথা মনে হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব মানবতায় মর্মাহত হয়। আর শ্রমিক পরিবারগুলো সুবিচার পাওয়ার আশায় থাকলেও ছয় বছরে অভিযুক্তদের বিচারে তেমন অগ্রগতি নেই।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী ক্ষতিপূরণ একসঙ্গে না দেওয়ায় ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হওয়া প্রায় ৫১ শতাংশ শ্রমিক বেকার। এ ছাড়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গঠন-পরবর্তী সময়ে ভেঙে যাওয়ায় সময়োপযোগী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

তবে ওই দুর্ঘটনার পর ছয় বছরে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে কারখানার নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অগ্রগতি হয়েছে। এদিকে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নিহত শ্রমিকদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিলসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করবে। এদিকে বিচার ছাড়াও ভবন ধসের ছয় বছর পার হলেও এখনো অনেক নিহত শ্রমিকের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পাননি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ। ফলে অনেক আহত শ্রমিক অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিয়ে আজও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কারখানার মান উন্নয়নের কাজ বাকি রয়ে গেছে। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে কারখানাগুলোর পরিবেশ ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উন্নতি না এলে তা ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায় আবারও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। বছরের পর বছর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। আর যেন এমন দুর্ঘটনার শিকার না হতে হয়। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ৯টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। ভবনের কয়েকটি তলা নিচে দেবে যায়। কিছু অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর পড়ে। এ দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়, যা বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালান। ভবনের মালিক সোহেল রানা সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেই নয়তলা রানা প্লাজা ভবনটি। এতে ভূগর্ভস্থ তলায় গাড়ি রাখার জায়গা। দ্বিতীয় তলার বিপণিকেন্দ্রে বহু দোকান ছিল। তৃতীয় থেকে সপ্তমতলা পর্যন্ত পোশাক কারখানা। এর ওপরের দুটি তলা খালি ছিল। ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল প্রথম তলায়। গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় ৫ হাজারের মতো কর্মী কাজ করতেন।

advertisement