advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নতুন বেতন কাঠামোয় গার্মেন্ট শ্রমিকের মজুরি কমেছে ২৬ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:০৫
advertisement
advertisement

বিভিন্ন কারণে অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও সরকারের পক্ষে পরিদর্শনের ফলে সাড়ে ১২শ কারখানা বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়ে এখন বেকার আছেন। অন্যদিকে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য গঠিত নতুন বেতন কাঠামোয় ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ২৬ শতাংশ মজুরি কম দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে গতকাল ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবি বলছে, তৈরি পোশাক খাতের মজুরি নিয়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে। নতুন কাঠামোয় মজুরি বাড়েনি, উল্টো ২৬ শতাংশ কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এ হিসাবে মজুরি বাড়েনি, বাস্তবিক অর্থে সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। অন্যদিকে বেতন বাড়ানোর অজুহাতে মালিকরা সরকারের কাছ থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে করপোরেট ট্যাক্স ১৫ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা, গ্রিন ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১০ শতাংশ, এর পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে ৫ শতাংশ ডিউটি নির্ধারণ, বন্দরসেবা গ্রহণে নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ ও নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তাসহ তিন ক্ষেত্রে মোট নগদ সহায়তা ১০ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

টিআইবি বলছে, শ্রম আদালতে মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান না থাকায় উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আইনের অগ্রগতি হলেও শ্রমিক অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে মজুরি এখনো কম। এখানে ন্যূনতম মজুরি ১০১ ডলার; যেখানে ভারতে ১৬০, কম্বোডিয়ায় ১৯৭, ভিয়েতনামে ১৩৬, ফিলিপাইনে ১৭০ ডলার। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা ও মো. মোস্তফা কামাল।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পোশাক খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি পর্যাপ্ত দৃষ্টি পাচ্ছে না। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে। বাস্তবে মজুরি কমে গেছে বলে ধারণা করা হতো। আমাদের প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে। আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ মজুরি কমে গেছে। সেটি তো বাড়েইনি, বরং যারা আন্দোলন করেছে তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে; করা হয়েছে চাকরিচ্যুত।

ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে, যার অধিকাংশই মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত। টিআইবি জানায়, পোশাক খাতে অধিকাংশ সাব-কন্ট্রাক্টরনির্ভর কারখানায় ন্যূনতম মজুরি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া নতুন মজুরি কাঠামোয় মালিকপক্ষের মূল মজুরি বৃদ্ধি ২৩ শতাংশ দাবি করা হলেও প্রকৃত হিসাবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তা প্রায় ২৬ শতাংশ কম। মজুরি বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করায় ৫ হাজার শ্রমিককে আসামি করে ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। ১৬৮টি কারখানায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এদিকে তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য একক কর্তৃপক্ষ গঠনসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। এক. তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তদারকি ও সমন্বয়ে একক কর্তৃপক্ষ গঠন; দুই. শ্রমআইন এবং ইপিজেড শ্রম অধ্যাদেশে ঘাটতি সংশোধন; তিন. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি; চার. শ্রম অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো ও সেবা নিশ্চিত করা; পাঁচ. শ্রমিকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিচ্যুতদের কাজে পুনর্বহালের ব্যবস্থা; ছয়. শ্রমিকদের আইনগত অধিকার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিশ্চিত; সাত. সাব-কন্ট্রাক্ট ও ক্ষুদ্র কারখানায় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে একটি তহবিল গঠন; আট. সব বায়ারকে তাদের ওয়েবসাইটে নিজ নিজ বাংলাদেশি ব্যবসায়িক অংশীদার কারখানার নাম প্রকাশ এবং কারখানা বন্ধ করা শ্রমিক চাকরিচ্যুতিতে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ না করাসহ অন্য অর্থনৈতিক আচরণ বন্ধ করতে হবে; দশ কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিল থেকে গ্রুপ বীমার প্রিমিয়াম দেওয়ার বিধান রহিত করা; দশ. ত্রিপক্ষী কাউন্সিল কার্যকর করা; এগারো. তৈরি পোশাক খাতের প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে; বারো. রেডিমিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল কার্যকর করতে হবে।

advertisement