advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘণ্টায় ৩৫ রোগী ভর্তি আইসিডিডিআরবিতে

দুলাল হোসেন
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫৮
advertisement

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশেই বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। চিকিৎসার জন্য মহাখালীর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ রোগী।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৩১ রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে চাপ সামাল দিতে তাঁবু টানিয়ে হাসপাতালের সামনে খোলা জায়গায় চালু করা হয়েছে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১১টি জেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ১৬৯ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে।

জানা গেছে, মার্চ-এপ্রিল থেকেই বাড়তে থাকে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানীতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই চিকিৎসার জন্য ছুটে যান মহাখালীর আইসিডিডিআরবিতে। সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালটির ডায়রিয়া ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, কোনো বেড খালি নেই। রোগী বেশি হওয়ায় জরুরি বিভাগের সামনের খোলা জায়গায় তাঁবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন ৯০০ থেকে ৯৫০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। আর গত এক সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৬৬৭ রোগী। বিশেষ করে রাজধানীর সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, লালবাগ, মতিঝিল, রামপুরা, বাড্ডা ও মিরপুর থেকে রোগী বেশি আসছে। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কথা হয় রাজধানীর মা-া এলাকা থেকে আসা মো. খাদিম আলীর সঙ্গে।

তিনি জানান, তার দুই বছরের ভাতিজা মো. আবদুল্লাহর গত রবিবার থেকে পাতলা পায়খানা ও বমি হচ্ছে। প্রথম দিকে তাকে বাসায় ওরস্যালাইন খাওয়ানো হয়। কিন্তু তা বন্ধ হয়নি। এক সময় ছোট্ট এ শিশু দুর্বল হয়ে পড়ায় আইসিডিডিআরবিতে নিয়ে আসেন। সরকারিভাবে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম।

সেখানকার এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর আইসিডিডিআরবিতে যেসব রোগী চিকিৎসার জন্য আসে তাদের তথ্য কন্ট্রোল রুমে থাকে। এ ছাড়া ঢাকার আর কোনো হাসপাতালের তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে তারা দেশের ১০ জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করেন। সেগুলো হচ্ছেÑ কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, রাঙামাটি, ফেনী, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, যশোর ও কুষ্টিয়া। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় এসব জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৬৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৩ জন আইসিডিডিআরবির রোগী। গত ২২ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত আইসিডিডিআরবিসহ ১০ জেলার হাসপাতালে মোট ১৮ হাজার ৮২৮ ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।

এ তো গেল আইসিডিডিআরবিসহ ঢাকার বাইরের ১০ জেলার হিসাব। এর বাইরে আরও ৫৪টি জেলা রয়েছে। সেগুলোয় প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কী পরিমাণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে তার কোনো তথ্য নেই। প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পাঁচদিন। এখন সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু তার কোনো তথ্য সরকারি রেজিস্ট্রারে নেই। এ ছাড়া যেসব রোগী বেসরকারি হাসপাতাল বা বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারও কোনো হিসাব থাকে না। ফলে দেশের কী পরিমাণ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে তার সঠিক হিসাব নেই কারও কাছেই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গরম বাড়লেই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ে। পানিবাহিত এ রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ তাদের।

আইসিডিডিআরবির ডায়রিয়া ডিজিজ ইউনিটের প্রধান ডা. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাধারণত গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীও বৃদ্ধি পায়। এবারও তাই হয়েছে। তবে গেল বছরের তুলনায় এ বছর আইসিডিডিআরবিতে রোগীর চাপ একটু বেশি। মূলত গরমে পানির ব্যবহার বেশি হয়, কিন্তু তা বিশুদ্ধ না হওয়ায় মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া মানবদেহে পানিশূন্যতা ও পচা বাসি খাবার গ্রহণের কারণেও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে একটু সচেতন থাকলেই এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ছোট ছোট শিশুর মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে, সব বয়সী মানুষকেই পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে, বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, পচা বাসি খাবার খাওয়া যাবে না, শিশুদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। তার পরও যদি কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তা হলে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। স্যালাইন খাওয়ানোর পরও যদি রোগীর অবনতি ঘটে তবে নিয়ে যেতে হবে নিকটবর্তী হাসপাতালে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ‘গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত গরমের কারণে মানবদেহে সৃষ্ট পানিশূন্যতা, দূষিত পানীয় ও খাদ্য গ্রহণের ফলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এ থেকে মুক্ত থাকার জন্য পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। বেশি খেতে হবে তরল জাতীয় খাবার। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন নিরাপদ হয়। পানিতে লবণ মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। আবার যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে তাদের লবণযুক্ত পানি বা স্যালাইন খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া শরবত, কাটা ফলমূল, খোলা ও বাসি খাবার বর্জন করা জরুরি।’

advertisement