advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সড়ক আইনের বাস্তবসম্মত সমাধান মেলেনি আজও

তাওহীদুল ইসলাম
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:০৩
advertisement

বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ কার্যকর করতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে গতকাল রিট করা হয়েছে হাইকোর্টে। আইনটির গেজেট না প্রকাশের কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মতে, আইনের ‘বাস্তবসম্মত’ সমাধান মেলেনি আজও।

জানা গেছে, শুরু থেকেই পরিবহন নেতাদের চাপের মুখে পরিবহন আইন সংশোধন করা যাচ্ছিল না। গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর খিলক্ষেতে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আট বছর ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া এ ঘটনার সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন।

এর পরও গেজেট প্রকাশ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায়। ওই সভার পর কমিটির কাজ বেশিদূর এগোয়নি। কমিটির অন্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন আইনমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী। তাদের কাজ হচ্ছে, আইনটির বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা। অর্থাৎ বিধিমালা প্রণয়নে এক ধরনের সুপারিশ দেওয়া। বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রশ্নটি সামনে এসেছে পরিবহন নেতাদের চাপের কারণে। পরিবহন নেতারা বলে আসছেন, আইনটি বাস্তবসম্মত নয়।

প্রসঙ্গত, বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত ৩৬ বছরের পুরনো মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ দিয়ে চলবে দেশের পরিবহন খাত। বিআরটিএর রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শেখ মাহবুব-ই রব্বানি এ বিষয়ে বলেন, সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে পরিবহন মলিক-শ্রমিকদের আপত্তির বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র, আইন ও রেলপথমন্ত্রীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমার জানা মতে, ওই কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে ইতোমধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় এ কমিটি গঠনের সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিধি প্রণয়নসহ বাস্তবসম্মত সংশোধনের দিকগুলো দেখবেন তিন মন্ত্রী। অবশ্য এখন পর্যন্ত কমিটির কাজ দৃশ্যমান হয়নি। ২০১০ সালে যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরের গত আট বছরে চারবার আইনের খসড়া তৈরি করা হয়।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতিতে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ওই বছরের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পায় খসড়া। আলোচনা থেমে যাওয়ার পর প্রায় দেড় বছর চলে যায় আইন মন্ত্রণালয়ে ছিল যাচাই-বাছাইয়ে। অভিযোগ আছে, পরিবহন খাতের নেতাদের চাপেই এত দীর্ঘ সময় লাগে যাচাই-বাছাইয়ে।

advertisement