advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হত্যার পর ঘরে লাশ পুঁতে রেখেছিল প্রেমিকা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৩
advertisement

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে নিখোঁজের দুই মাস পর কলেজছাত্র উজ্জ্বলের বস্তাবন্দি লাশ একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওই ছাত্রের প্রেমিকা ফারজানা আক্তার ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর উজ্জ্বলের লাশ ঘরের মধ্যে গর্ত করে লুকিয়ে রেখেছিলেন ফারজানা। পরে তার বাবা মঞ্জু মিয়া ১০-১২ দিন পর লাশ বস্তাবন্দি করে বিলের কচুরিপানার নিচে ফেলে দেন। গতকাল মঙ্গলবার তাদের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি লাখাই উপজেলার মুড়াকড়ি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া নিখোঁজ হন।

তিনি মাধবপুর উপজেলার সাঈদ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি তার পরিবারের পক্ষ থেকে লাখাই থানায় একটি জিডি করা হয়। প্রেমিকা ফারজানা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ফারজানার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ সূত্র জানায়, তার বাবা মঞ্জু মিয়া কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় ফেরি করে চা বিক্রি করেন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ফারজানা দ্বিতীয়। মা-বাবাসহ অপর ভাইবোনেরা ঢাকায় থাকায় গ্রামের বাড়িতে একাই থাকতেন ফারজানা। বাবা-মায়ের অবর্তমানে তার বাড়ির লাগোয়া দুই চাচা আনো মিয়া ও তনু মিয়া দেখাশোনা করতেন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে উজ্জ্বল প্রেমিকা ফারজানার বাড়িতে আসেন।

বাড়িতে কেউ না থাকায় একপর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এ সময় তামান্না নামে উজ্জ্বলের আরেক প্রেমিকা মোবাইল করলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিত-া হয়। উজ্জ্বলের একাধিক প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ফারজানা প্রথমে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তা পাল্টিয়ে উজ্জ্বলকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তিনি বাড়িতে থাকা পাটার পুতা দিয়ে উজ্জ্বলের মাথায় আঘাত করেন।

এতে উজ্জ্বল মাঠিতে লুঠিয়ে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তিনি উজ্জ্বলের গলায় ফাঁস দিয়ে হাত পায়ের রগ কেটে ফেলেন। রাতেই তিনি বাড়ির অপর কক্ষে গর্ত করে লাশ লুকিয়ে ফেলেন। পর দিন তিনি ঢাকায় গিয়ে মা-বাবাকে ঘটনাটি জানান। ১০-১২ দিন পর মঞ্জু মিয়া বাড়িতে এসে উজ্জ্বলের লাশ বস্তাবন্দি করে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মেদির বিলের একটি জলাশয়ের কচুরিপানার নিচে ফেলে দেন। এদিকে পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় ঘটনার রাতে উজ্জ্বল ফারজানার বাড়িতে ছিল। পরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ গত রবিবার সকালে ধর্মপুরে অভিযান চালিয়ে ফারজানা ও তার বাবা মঞ্জু মিয়াকে আটক করে।

সোমবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পিতা ও কন্যা এ হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) অজয় চন্দ্র দেব জানান, এ হত্যকা-ের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য বাবা-মেয়েকে আনা হয়।

advertisement