advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্কুলছাত্রীকে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ, পরে ভিডিও ইন্টারনেটে

ফরিদপুর প্রতিনিধি
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ১২:৩২
advertisement
advertisement

দুই বন্ধু মিলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে। সেই দৃশ্য ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও কয়েকবার গোপনে দেখা করতে বলে ওই দুই বখাটে যুবক। কিন্তু মেয়েটি রাজি না হওয়ায় ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে ধর্ষণের দৃশ্য। এর পর এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়। এ বিষয়ে মামলা হলে পুলিশ বখাটে এক যুবককে আটক করেছে।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল ফরিদপুরের সালথার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে বের হয়। আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা স্থানীয় দুই বখাটে শাকিল ও জাবের মাতুব্বর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে নির্জন একটি স্থানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে বখাটেরা।

পরে বখাটেরা বিষয়টি নিয়ে উচ্যবাচ্য করলে তাকেসহ পরিবারের সদস্যদের খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি বিষয়টি তার পরিবারের কাউকে জানায়নি। এদিকে ধর্ষণকারীরা পরে আরও কয়েকবার স্কুলছাত্রীটিকে গোপনে দেখা করার কথা বলে। এতে সে রাজি না হলে ধর্ষণের দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। স্কুলছাত্রী ওদের কথায় রাজি না হলে বখাটেরা ধর্ষণের দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ইন্টারনেটে ভিডিওটি দেখার পর স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারে।

এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ইন্টারনেটে ধর্ষণের দৃশ্য ছেড়ে দেওয়ার পর মেয়েটি স্কুলে যেতে পারছে না। তার পরিবারের সদস্যদেরও শুনতে হচ্ছে নানা আজেবাজে কথা। এদিকে ধর্ষণের ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় মাতুব্বরদের শরণাপন্ন হন ওই ছাত্রীর বাবা। মাতুব্বররা বখাটেদের বিচার না করে উল্টো মেয়েটিকে অপবাদ দেন।

মাতুব্বরদের কাছে কোনো বিচার না পেয়ে ছাত্রীটির বাবা সোমবার রাতে সালথা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুগীকান্দা লক্ষ্মণদিয়া গ্রামের মাসুদ ফকিরের ছেলে শাকিলকে আটক করেছে। পুলিশ অপর ধর্ষক বজলু মাতুব্বরের ছেলে জাবের মাতুব্বরকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ধর্ষণের শিকার হওয়া ছাত্রীটির ভাই জানান, বখাটেরা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। ইন্টারনেটে ধর্ষণের দৃশ্য নেটে ছেড়ে দেওয়ার পর তারা এখন ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। বিভিন্ন মানুষ তাদের আজেবাজে কথা বলছে। তার বোনও স্কুলে যেতে পারছে না। ঘরের মধ্যে মনমরা হয়ে বসে থাকে। কেউ কিছু বললে উত্তর দেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমার বোনকে নিয়ে চিন্তায় আছি। যারা আমার বোনের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে, ইন্টারনেটে ছেড়েছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’ তিনি জানান, মামলার পর তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকের পরিবারের সদস্যরা। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় এক আসামি শাকিলকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিকেও দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

advertisement