advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আস্থার প্রতিদান দিতে চান রাহী

২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২০
advertisement
advertisement

সুইং বোলিং একটি কঠিন শিল্প। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই সেই কঠিন কাজটি সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করেছেন তিনি। বলের দুপাশেই সুইং করাতে পারেন। ইন সুইং ও আউট সুইং-দুটিতেই পারদর্শী। পুরনো বলে রিভার্স সুইংয়েও দক্ষ। সুইং প্রদর্শনী দেখিয়েই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন তিনি।

তবে এখনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি তার। ৫টি টেস্ট ও ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। গত নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজে তার সুইং প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হন নির্বাচকরা। তাই চমক হিসেবে তাকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে রাখা হয়েছে। বিশ্বকাপের সেরা মঞ্চে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চান ডানহাতি তরুণ মিডিয়াম পেসার। এম.এম. মাসুকের একান্ত সাক্ষাৎকারে আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন আবু জায়েদ রাহী।

প্রশ্ন : এখনো ওয়ানডে খেলেননি। নিউজিল্যান্ডে বোলিংয়ে সুইং প্রদর্শন করায় বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেলেন। স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ ব্যাপারে কিছু বলুন।

রাহী : স্বপ্নপূরণ হয়েছে বলব না। কারণ, আমি তো এখনো বিশ্বকাপে খেলিনি। তবে এটা বলতে পারিÑ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ায় ভালো লাগছে। নতুন হিসেবে রোমাঞ্চিতই বলতে পারেন।

প্রশ্ন : পেসারদের কাছে সুইং না পেস আগে জরুরি?

রাহী : দেখুন, আমার এত পেস নেই। আমার বলে গতি ১৩০ থেকে ১৩৫-এর মধ্যে। সুইং নিয়েই বেশি কাজ করি। আমার কাছে সুইংটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুইং দিয়েই উইকেট শিকার করার জন্য চেষ্টা করি।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে আগেও খেলেছেন। কন্ডিশন চেনেন। ফাস্ট বোলাররা কি প্রথম ১০-১৫ ওভারে জ্বলে উঠতে পারে? আপনার অভিমত কী?

রাহী : অনেক আগে খেলেছিলাম। কন্ডিশন সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা আছে। আপনি যেটা বললেন, প্রথম ১০-১৫ ওভারে পেস বোলাররা ভালো কিছুই করে দেখাতে পারে। আমাকে যে কারণে দলে নেওয়া হয়েছে, আমি আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। দলকে যেন ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারি, সেই চেষ্টা থাকবে আমার।

প্রশ্ন : উইকেটের ২ পাশ দিয়ে ডানহাতি ও বাঁহাতি কম্বিনেশন হলে কি ভালো হবে?

রাহী : হ্যাঁ, তাতে সুবিধা হয়। ব্যাটসম্যান ডানহাতি কিংবা বাঁহাতি হলে সমস্যা নেই।

প্রশ্ন : গতিই সব? নাকি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেভাবে স্লোয়ার বল করা হয় সেটা বিশ্বকাপে কাজে লাগাবেন?

রাহী : সেটি নির্ভর করে উইকেটের ওপর। উইকেট যদি ওই রকম হয় স্লোয়ার কাজে লাগবে। তা না হলে শুধু শুধু স্লোয়ার দিয়ে তো লাভ নেই। আমি মনে করি, এটা পুরোটাই উইকেটের ওপর নির্ভর করে।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে কোন ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারলে খুশি হবেন।

রাহী : ওই রকম নির্দিষ্ট কেউ নেই। সব ব্যাটসম্যানই আমার কাছে সমান। যে কোনো ব্যাটসম্যানই হোক, উইকেট পেলেই খুশি হব।

প্রশ্ন : আপনার আদর্শ বোলার কে? যাকে দেখে বড় হয়েছেন। আর এখন সমসাময়িক কোন বোলারের বোলিং দেখেন?

রাহী : আমার আদর্শ বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। আমার সমসাময়িক কোনো বোলারকে আমি ফলো করি না। আমি সব সময় নিজের মতো করে চেষ্টা করি ভালো বোলিং করার। যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেটি নিয়েই কাজ করি।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে আমাদের কোন বোলাররা ভালো করবেন বলে আপনার বিশ্বাস?

রাহী : অবশ্যই, পেসাররা ভালো করবেন। পেসের সঙ্গে সুইংটাও থাকতে হবে।

প্রশ্ন : ক্রিকেটার না হলে কী হতেন? রাহী : আমি ক্রিকেটার না হলে ইঞ্জিনিয়ার হতাম। প্রশ্ন : ফাস্ট বোলিংটা কি গুরুমুখী না জন্মগত?

রাহী : ক্রিকেট খেলার শুরুতে আমি অফস্পিনে জোরে বল করতাম। এর পর থেকেই পেস বোলিংয়ে আসা। আমার বোলিংটা জন্মগতই বলতে পারেন।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে প্রচুর দর্শক সমর্থন পাবেন। প্রত্যাশার চাপ কি খেলায় প্রভাব ফেলবে না?

রাহী : ঘরের সমর্থকদের সামনে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আগেও হয়েছে। বিপিএলের সময় সিলেটের মাঠে খেলেছিলাম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ম্যাচ খেলেছিলাম। এটি কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। তবে আমার ভাই (রাদি হাসান) লন্ডনে থাকেন। পরিবারের লোকজন ইংল্যান্ডে না থাকলে ভালো হতো... (হাসি)।

advertisement