advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এতে কি সুফল মিলবে

২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৯
advertisement

বাংলাদেশে জাতীয় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে ব্যাংক খাতের ‘খেলাপি ঋণ সমস্যা।’ এ সমস্যা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে। গত তিন দশকে খেলাপি ঋণের অঙ্ক জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। এটা সত্য যে, বর্তমান সরকারের আমলে অর্থনীতির গতি চাঙ্গা হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ শতাংশের বেশি হবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এতসব অর্জনের পরও বড় দুঃসংবাদ হলো খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সরকার ছাড় দিল ব্যবসায়ীদের। এখন ব্যবসায়ীরা চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ছয় মাস টাকা না দিয়ে খেলাপিমুক্ত থাকতে পারবেন। এতে একজন ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধের জন্য আগের চেয়ে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাবেন। ২০১২ সালে ঋণ নীতিমালা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কিন্তু ঋণখেলাপিদের চাপে সেই নীতি থেকে পিছু হটল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিবর্তিত নীতিমালা কার্যকর হবে আগামী জুন থেকে। মূলত ঋণখেলাপিদের ২০১৪ সাল থেকে টানা ছাড় দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিয়ম শিথিল করে বিশেষ ছাড়ে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন ও সুদ মওকুফ সুবিধা দেওয়ার পরও গত বছরই খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ২৬ শতাংশ বা ১৯ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। আগের বছরে যা ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের মারাত্মক ঘাটতিরই প্রমাণ দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাগ্রহণ করেই খেলাপি ঋণ কমানোর ঘোষণা দেয়।

আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ ঘোষণা দিচ্ছেন। অথচ খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য আদায়ের পরিবর্তে নীতি পরিবর্তন করে ছাড়ের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমরা দেখেছি ২০১৫ সালে ঋণখেলাপিদের জন্য ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন ১১টি শিল্প গ্রুপের ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করে বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সেই সময় দুটি গ্রুপ ছাড়া আর কেউ টাকা পরিশোধ করেনি। অর্থাৎ সুবিধা দিয়েও খেলাপি ঋণ আদায়ে যে ফল মেলে না, তা প্রমাণিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্য ও দুর্বৃত্তপনা বন্ধ করতে যা প্রয়োজন, তা হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ। বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকারের অন্যান্য সাফল্যকে সবচেয়ে বেশি ঢেকে দিচ্ছে ব্যাংক খাতের এ খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের এ প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যদি শক্ত হাতে একে মোকাবিলা করা না হয়, তা হলে অদূর ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের কারণ হবে।

advertisement