advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজনীতিবিদদের পাঠাভ্যাস

২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৭
advertisement

রাজনীতি কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অস্ত্র নয়, আধুনিক আত্মসচেতন আর নাগরিক অধিকার সচেতন মানুষ গড়ারও ইনস্টিটিউট। তাই এটি বিজ্ঞান বিশ্বাসের ধর্মাচরণ নয়। রাজনীতিকরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের সম্মতিক্রমেই ক্ষমতায় আসেন। সামরিকতন্ত্র অস্ত্র হাতে ক্ষমতা দখল করে বলেই জনগণকে অপরাজনীতি শেখায়। তখন আমাদের উঠতি যৌবনকাল।

রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান। আমার সহপাঠী প্রিয় বন্ধু একটি বই উপহার দেয়। বইটির লেখক আইয়ুব খান। বইটির ইংরেজি নাম ‘ফ্রেন্ডস নট মাস্টার’। এর বাংলা অনুবাদের নাম ‘প্রভু নয়, বন্ধু’।

বিদেশি কাগজে ছাপা, অপূর্ব ছাপা, হৃদয় হরণ করার মতো। কষ্ট করে হলেও শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়েছিলাম। দুঃখের বিষয়, একাত্তরের যুদ্ধ শুরু হলে অন্য আরও কিছু বইয়ের সঙ্গে ওই বইটিও আমার জন্ম নদী শীতলক্ষ্যার জলে সলিল সমাধি করে দিই। বইটির বিষয়বস্তু পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন। সত্যি যদি বইটি আইয়ুব খান লিখে থাকেন নিজের হাতে (অনেকের সন্দেহ ফরমায়েশি লেখা), তা হলে লেখার কষ্টসাধ্য শ্রমের জন্য তাকে ধন্যবাদ। অস্ত্রের হাত কলমের হাতে রূপান্তর, কম কথা নয়! অনেক সামরিক শাসকের মতো আইয়ুব কিন্তু কবিতা লেখেননি, গদ্য লিখেছেন।

সামরিক শাসক কিংবা গণতন্ত্রী শাসকদের কবিতা লেখা দোষের নয়। বামপন্থি শাসক পাবলো নেরুদা কবিতা লিখে নোবেল পেয়েছিলেন। সর্বহারা বিপ্লবী সিরাজ সিকদারও গণমানুষের কাব্য লিখেছেন। আমরা খেয়াল করলে দেখব, সমাজতন্ত্র পতনের যুগের আগে ও পরে বিশ্ব রাজনীতিতে রাজনীতিকদের চিন্তা-চেতনা, চর্চার দিকটিই পাল্টে গেছে।

উত্তর সমাজতন্ত্রের যুগে রাজনীতিবিদদের বিদ্যা, জ্ঞান, দর্শন বা সাহিত্যচর্চা বলতে গেলে পরিত্যাজ্য হয়ে গেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের গ্রন্থাগারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অসংখ্য বই সাজানো আছে। সন্দেহ, ওই বইকক্ষে তিনি ভুলেও পা মাড়াননি। বিশ্বের প্রতিটি দেশের ট্রাম্পরাই আজ বিদ্যাচর্চাবিমুখ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা ভ্লাদিমির লেনিন ও জোসেফ স্ট্যালিনের জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস, বই লেখা আজও বিশ্বে কিংবদন্তি হয়ে আছে। বিশ্বব্যাপী স্ট্যালিনের নামে এমন একটি প্রচার ছিল যে, পুরো মস্কো ঘুমিয়ে পড়েছে, গভীর রাতে একা জেগে বই লিখছেন স্ট্যালিন। মাও সে তুংও কম যান না। আসলে অতীতের সমাজতন্ত্রী রাজনীতিবিদরাই জ্ঞানচর্চাকে রাজনীতির অন্যতম প্রধান কাজ বলেই মানতেন। অবশ্য তৎকালের ধনতন্ত্রে বিশ্বাসীরাও জ্ঞানচর্চা করতেন। আব্রাহাম লিংকন থেকে শুরু করে রুজবেল্ট, কেনেডিরাও চর্চার ভেতরই ছিলেন।

ইউরোপ, আমেরিকা ছেড়েই দিলাম, প্রাচীন ভারতের গুপ্ত সাম্রাজ্য বা মধ্যযুগের মোগল সাম্রাজ্য কী সংবাদ দেয় আমাদের? চন্দ্রগুপ্ত জ্ঞানের সাধনা করেছেন, কঠিন কঠিন বই লিখেছেন (অনুশাসন)। সম্রাট অশোকও তা-ই। বিশ্বজ্ঞানের অন্যতম আইকন ‘আইনি আকবর’ কার লেখা? কেবল সম্রাট আকবরই নন, শাহজাদা দারাশিকো তো বিস্ময়কর এক প্রতিভার নাম। সংস্কৃত ভাষায় লেখা ‘বেদ’ তিনি ফার্সিতে অনুবাদে হাত দিয়েছিলেন। তাকে আওরঙ্গজেব হত্যা করে একটি মহৎ কাজকেও হত্যা করেন। এই লেখায় আমরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের টানছি না, সীমানাটা থাকছে রাজনীতিবিদদের নিয়ে। তাই ঔপনিবেশিক যুগের জওয়াহেরলাল নেহরু বা মওলানা আবুল কালাম আজাদের নাম স্মরণ করছি। নেহেরু ও আজাদ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই লিখে গেছেন।

এসব আজও রাজনৈতিক ইতিহাসচর্চার গবেষণার আকার গ্রন্থ। তা ছাড়া আমরা অবিভক্ত বাংলার বিপ্লবীদের কথা স্মরণ করতে পারি। নিরাপদ সুখকর জীবন ছিল না তাদের। ‘জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ করে বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, ফাঁসিতে ঝুলেছেন। তবু লিখে গেছেন যত পৃষ্ঠা সম্ভব, যত শব্দ সম্ভব। বিপ্লবী কর্মকা-ের সময় দিনরাত কেবল বই পড়তেন। যতটুকু আয়ু পেয়েছেন, এর ভেতরই ১০ লাইন হলেও লিখে গেছেন স্বপ্নের কথা, নিজের কথা। বিনয়, বাদল, দীনেশ, ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন, কত নাম। সুভাষ বসুর লেখা রাজনীতিবিদদের সামনে কেবল সময়ের কথাই বলে নাÑ স্বপ্নের কথা বলে, গন্তব্যের কথা বলে। তার রাজনৈতিক বিজ্ঞানচর্চা ভাবীকালেরও সম্পদ। পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের পাঠাভ্যাস বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানচর্চার দিকটিকে অবজ্ঞা করার যুক্তিগ্রাহ্য কোনো কারণ নেই। পাকিস্তান আন্দোলন বা দ্বিজাতিতত্ত্বটিও একটি রাজনৈতিক দর্শন।

পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে এ বিষয়ে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। তা ছাড়া রাজনীতির বাইরেও জিন্নাহর পড়াশোনার ক্ষেত্রটি নেহাত ছোট ছিল না। ইংরেজির সঙ্গে উর্দু, ফার্সি, গুজরাটি, হিন্দি সাহিত্যের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। লেখালেখিও করেছেন প্রচুর। ব্যক্তিজীবনে ধর্মের প্রতি অনাগ্রহের মূলে ছিল আধুনিকতার চর্চা। অথচ বাস্তব সত্য এইÑ ওই ধর্ম নিয়ে তাকে রাজনীতি করতে হয়। করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখানেই ইতিহাস ও জিন্নাহর দর্শনের রহস্য। অন্যদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী আর শেরেবাংলা ফজলুল হকের পাঠাভ্যাসটি জিন্নাহর পর্যায় না হলেও চর্চার অভ্যাস তাদের ছিল। ফজলুল হক বাংলার কৃষকজীবন নিয়ে যতটা মাঠপর্যায় ও গবেষণা পর্যায়ে চর্চা করেছেন, ওই চর্চাটি সোহরাওয়ার্দীর ছিল না। তার জানাজানি যতটা ছিল নগরের, গ্রাম ছিল তার বহু দূরবর্তী।

তবু তারা নিজের মতো করে লেখালেখি করেছেন। আজকের বিবেচনায় এর হিসাবটি কম নয়। ঔপনিবেশিক যুগে স্বদেশি আন্দোলন (ইংরেজরা বলত সন্ত্রাসবাদী) চলাকালে বিপ্লবীদের কাছে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দ মঠ’ ছিল ধর্মগ্রন্থের মতো। তা ছাড়া শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবি’ও ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্বাধীনতা আন্দোলনকারীরা ওই দুই উপন্যাসে বিপ্লবের বীজ খুঁজে বেড়াতেন। রেনেসাঁ কেন্দ্র করে বাঙালি হিন্দু-মুসলমান এক টানাপড়েনে পড়ে। হিন্দু রেনেসাঁ আর মুসলিম রেনেসাঁর ধারণা জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে রাজনীতিকদের বিভাজনের জালে আটকে দেয়। শুদ্ধ রাজনীতিচর্চা আর মানবতার রাজনীতিচর্চার পুস্তকগুলো দ্রুত চর্চার টেবিল বদল করে।

বাঙালি রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিকচর্চা ও বিচিত্র ইতিহাস-দর্শনচর্চার ক্ষেত্রে বিভেদের সর্বনাশা যাত্রা ওইদিন থেকেই শুরু। চমকপ্রদ হিসাবটি এই যে, পাকিস্তান সৃষ্টির খুব অল্পদিন পরই ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পাল্টা হিসেবে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটে। এমনিতে পাকিস্তানপন্থি রাজনীতিবিদদের পাঠাভ্যাসটি গোড়াতেই ছিল কম। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব হলে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে পঠন-পাঠনের আবহ সৃষ্টি হয়। তারা বাংলা সাহিত্য নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। বাংলা সাহিত্য তাদের বাঙালি জাতিকে চিনতে ও বুঝতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে জ্ঞানচর্চা বা পাঠাভ্যাসের বিষয়ে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীদের চেয়ে শতগুণ এগিয়েছিলেন সমাজতন্ত্র কিংবা সাম্যবাদে বিশ্বাসী রাজনীতিবিদরা। সংবাদপত্র পাঠের ব্যাপারেও দেখা গেছে, প্রগতিশীলরাই পাঠক সংখ্যায় অধিক। মুসলিম লীগারদের ঘরে ধর্মগ্রন্থ ছাড়া কোনো বইয়েরই জায়গা হতো না। অথচ প্রগতিশীলদের ঘরে হাঁড়িতে ভাত না থাকলেও বই পাওয়া যেত। ওই বই রাজনীতির হোক কিংব সাহিত্য, বিজ্ঞান বা দর্শনেরই হোক। এটি সত্য, ভাষা আন্দোলন বা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাঙালি রাজনীতিবিদদের বই কেনা বা পাঠ করার অভ্যাসটি তৈরি করে দেয়। তারা প্রচুর বইও লিখেছেন। এর বাইরেও অনেক বই আছে। মনসুর আহমদের ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

মনসুর সাহেব কেবল রাজনীতিকই নন, সাংবাদিকও ছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদের ‘ডাইরি’ তো রীতিমতো ইতিহাস ও রাজনীতির প্রামাণ্য দলিল। রাজনীতিবিদদের পাঠাভ্যাস আর লেখালেখির অপূর্ণতা পূর্ণ করেছেন বুদ্ধিজীবীরা। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বা বদরুদ্দীন উমরের লেখা রাজনীতির বই বাঙালির সম্পদ। জ্ঞানকোষও বটে। বাংলাদেশের বিপ্লবী রাজনীতির অবস্থাটা যেখানেই থাকুক, এ কথা পরম সত্যÑ সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট বিপ্লবী রাজনীতিবিদরাই গুরুত্বপূর্ণ বই লেখার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় হাজারগুণ এগিয়ে। তাদের পাঠাভ্যাস ঈর্ষণীয়। তাদের শোয়ারঘরের চেয়ে বইয়ের ঘরই অধিক। পাঠাভ্যাস তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। বইয়ের দোকানের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো তাদেরই লেখা। অজয় ভট্টাচার্য, পূর্ণেন্দু দস্তিদার।

মণি সিংহ, খোকা বায়, সুখেন্দু দস্তিদার, আমজাদ হোসেন, হায়দার আকবর খান রনো ও অনেকে বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন। প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে পড়াশোনা ও বই লেখাও তাদের কাজ। সোভিয়েত বিপ্লব ও মার্কসবাদের ওপর বাংলাদেশে যিনি অধিক বই লিখেছেন, তিনি হচ্ছেন হায়দার আকবর খান রনো। সাহিত্যেরও তিনি একজন বোদ্ধা পাঠক। বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের পাঠাভ্যাসের রীতিটা বর্তমানে নিম্নমুখী। এক সময় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বই পড়ার যোগাযোগ ছিল। তরুণ প্রজন্মের বর্তমান অবস্থাটা ভয়াবহ। রাজনীতি করছে, ছাত্রনেতা হচ্ছে। কিন্তু সাহিত্য তো দূর ছাড়, রাজনীতির বইও স্পর্শ করে না তারা।

এক সময় বাম ছাত্র সংগঠনে বই পড়া, বই কেনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া ছিল কর্তব্যেরই অংশ। জ্ঞানচর্চার ওই দুনিয়াটি হঠাৎ কোথায় যেন হারিয়ে গেল। লেখাপড়া জানা, বিশ্বকে জানা, সমাজ-রাষ্ট্র-মানুষকে জানা এখন আর রাজনীতির যোগ্যতার কোনো মাপকাঠি নয়। সেই হবে ছাত্রনেতাÑ যার বাবা ধনী, যার বাবা দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানচর্চার দরকার নেই। পেশি আর কড়িই যোগ্যতার মাপকাঠি। সুশিক্ষিত, ন্যায়বান, দেশপ্রেমিক আর সৎ ব্যক্তিরা এতদিন রাজনীতি করতেন।

তারা আজ রাজনীতির মাঠ ছেড়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়েছেন। অতীত সময়টা যেন রূপকথার জগৎ। ওই হারিয়ে যাওয়া সময়ের রাজনীতিবিদরাই বই পড়তেন, বই লিখতেন। এখন লেখক-পাঠক, জ্ঞানসাধক রাজনীতিকও নেই। তাই আজ সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আসল ইতিহাসও লেখা হয় না। আপন অর্জিত জ্ঞান দিয়ে জনগণের চেতনার মানও নির্মাণ করা হয় না।

জ্ঞানের চর্চা, পাঠের অভ্যাস কেবল স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাই দান করেন না, রাজনীতিবিদরাও করেন। সততা কেবল ধর্মগুরুই শেখান না, নেতারাও শিক্ষা দেন। কিন্তু সেই নেতা কই? মার্কস, লেনিন, স্ট্যালিন, মাও, কেউ শিল্প-সাহিত্যের লোক নন। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের লেখা আজও মানুষের মনে কৌতূহল সৃষ্টি করে। এটি তো পরীক্ষিত সত্য, যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন, তাদের বিশ্ব দর্শন ও সমাজ দর্শন সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। পাঠাভ্যাসই একমাত্র পথ সমাজ আর মানুষকে জানার। বাঙালি রাজনীতিবিদদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ঔপনিবেশিক প্রভুদেরও মুগ্ধ করত।

কোনো কোনো বাঙালি রাজনীতিবিদদের প্রজ্ঞায় বিস্মিত হতেন ইংরেজ শাসক। যেমনÑ সুভাষ বসুর ভাই শরৎ বসু। মানুষ দার্শনিক, বিজ্ঞানী, কবিকে নেতা হিসেবে চায় না। তারা চান জ্ঞানের সর্বক্ষেত্রে চর্চা করেনÑ এমন রাজনীতিককে। ঊনসত্তরে গণআন্দোলন করেছিল যে যৌবনশক্তি, একাত্তরে যুদ্ধ করেছিল যে তারুণ্যÑ তাদের বড় অংশই ছিল জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী। পাঠাভ্যাস ছিল তাদের রাজনীতির অংশ। দুঃখের বিষয়, জ্ঞানতৃষ্ণার ওই তারুণ্য আজ রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। ছাত্রনেতাদের ঘরে বই খুঁজে পাওয়া যায় না আজকাল।

বইমেলায় তারা বই কেনে না, বিনোদন সন্ধানে যায়। এটি তারা জানে না, বাংলা ভাষায় রচিত বহু উচ্চাঙ্গের বই জেলখানায় বসে লেখা। তাই পাঠাভ্যাস যদি রাজনীতিবিদদের মধ্যে ফিরে না আসে, তা হলে জাতির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের সামনে দাঁড়াবে। রাজনীতিকদের কবি-লেখক হওয়ার দরকার নেই। রাজনীতির জন্যই তাদের পাঠক হতে হবে। রাজনীতির দর্শন যতটা ছড়িয়ে থাকে জনতার ভেতর, রাষ্ট্রের ভেতর, পাঠাভ্যাসের ভেতর থাকে কিঞ্চিৎ অধিক।

হরিপদ দত্ত : কথাশিল্পী

advertisement