advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘নজরুলের গান সময় নিয়ে ধৈর্যসহকারে শিখতে হয়’

তারেক আনন্দ
২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৫
advertisement

নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশ হচ্ছে নতুন গান। গান ও তার ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তারেক আনন্দ নজরুলের গানের প্রতি ভালোলাগা কখন থেকে শুরু হয়? ছোটবেলায় যখন নাচ শিখতাম, তখন থেকেই নজরুলের গান ভালো লাগে। আমি তখন ক্লাস টুতে পড়ি। সবেমাত্র স্কুলে যাই।

এখানে স্কুলের ভূমিকাও আছে। আমার স্কুল ছিল জয়দেবপুরের বরমী গ্রামে। স্কুলে প্রতি বৃহস্পতিবার বিচিত্র নামে অনুষ্ঠান হতো। ছেলেমেয়েরা গান পারুক বা নাই পারুক, সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হতো। নজরুলের গানের সঙ্গে আমরা নৃত্য পরিবেশন করতাম। সেই স্কুল থেকেই ভালোলাগা শুরু।

সন্তানের গানে আসার পেছনে বাবা-মায়ের ভূমিকাও বেশি থাকে। আপনার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কেমন ছিল? বাবা-মায়ের ভূমিকা তো সব সময় থাকে। আমার বাবা রণজিৎ কুমার দাসও ছিলেন সংগীত অনুরাগী। খুব ভালো তবলা বাজাতেন। আর মা কণা দাসও দারুণ গাইতেন। তাদের ইচ্ছাতেই তো সব কিছু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগীত শিক্ষাটা শুরু হলো কখন থেকে? ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি, তখন ওস্তাদজির কাছে গান শিখি। আমার প্রথম ওস্তাদের নাম ছিল ভক্ত দাস। ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থায় ঢাকায় চলে আসি।

মিরপুর সাংস্কৃতিক একডেমিতে প্রথমে, এর পর ক্লাস এইটে পড়া অবস্থায় ছায়ানটে। ছায়ানটে সংগীতগুরু হিসেবে পেয়েছিলাম শ্রী মানস কুমার দাস, অঞ্জলি রায়, খায়রুল আনাম শাকিল, সুমন চৌধুরীকে।

সবার খুব কাছাকাছি যেতে পেরেছি, এটা আমার সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। নজরুল ও উচ্চাঙ্গসংগীত বিভাগে ছায়ানট থেকে পাস করি। এর পর নিশ্চয়ই আপনার ব্যস্ততা বেড়ে যায়? ছায়ানট থেকে পাস করার পর ছোটখাটো অনুষ্ঠান করা শুরু করলাম। টিভিতেও প্রোগ্রাম করি। এ পর্যন্ত কয়টি অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে? প্রথম গান প্রকাশ হয় শান্তির বাণী থেকে একটি মিশ্র অ্যালবামে। অ্যালবামের নাম ‘কেড়ে লহো নয়নের আলো’। এখানে গান ছিল আটটি। কণ্ঠ দিয়েছিলেন সুবীর নন্দী, রফিকুল আলম স্যার, রোজলিন ডি কস্টা, প্রবীর পালসহ আমার একটি গান নাম ছিল, ‘যাবো না যাবো না যাবো না ঘরে’।

এর পর লেজার ভিশন থেকে প্রকাশ হয় তিন কবির গান নিয়ে আমার প্রথম একক অ্যালবাম ‘আমি বাঁধিনু তোমার তীরে’ ও দ্বিতীয় একক অ্যালবাম প্রকাশ হয় একই ব্যানার থেকে ‘কি ব্যথা প্রাণে বাজে’। শ্রোতারা নতুন কোন গানগুলো পেতে যাচ্ছে? নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশ হচ্ছে পৃথিরাজের সংগীতায়োজনে নতুন দুটি গান। একটি হলো-‘নতুন নেশার আমার মদ’, ও ‘মোরে ভালোবাসায় ভুলিও না’। আপনি তো শিক্ষকতাও করছেন। শিক্ষকতা করতে কেমন লাগছে? শিক্ষকতা আমার ভালোলাগা।

ভালোলাগার জন্যই গান শেখাই। ছায়ানট, শিশু একাডেমিতে শিক্ষকতা করেছি। নতুনদের মাঝে কি নজরুলের গানের প্রতি একটু আগ্রহ কম। আপনি কি বলবেন? আগ্রহ একটু কমই বলা যায়। নজরুলের গান সময় নিয়ে এবং ধৈর্যসহকারে শিখতে হয়। রেয়াজের কোনো বিকল্প নেই। রেয়াজ না করে যদি নজরুলের গান কেউ করতে চান, তা হলে কিছুই হবে না। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, তবে তারা চেষ্টা করলে ভালো করবে।

advertisement