advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আবরার নিহতের মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

আদালত প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:২৭
বাসচাপায় মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার মামলায় সুপ্রভাত পরিবহনের ওই বাসটির মালিক ননী গোপাল সরকার (৪২) এবং চাপা দেওয়ার সময় সেটি চালনাকারী কন্ডাক্টর মো. ইয়াসিন আরাফাতের (২২) বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর কাজী শরিফুল ইসলাম গত বুধবার ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানা যায়। চার্জশিটে উপরোল্লিখিত দুই আসামির বিরুদ্ধে দ-বিধির ২৭৯ ধারায় রাস্তায় অবহেলার সহিত গাড়ি চালানো, ৩০৪ ধারায় যে কাজের জন্য প্রাণনাশ হতে পারে এমন কাজের দ্বারা মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ করা হয়েছে। আবরারকে চাপা দেওয়ার আগে বাসটি মিরপুর আইডিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মোসা. সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে (১৬) আঘাত করেছিল। এ জন্য পৃথক আরেকটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আবরার নিহত হওয়ার মামলাতেই। ওই চার্জশিটে বাস মালিক ও কন্ডাক্টর ছাড়াও বাসচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে মিরাজ (২৪) এবং চালকের সহকারী মো. ইব্রাহিম হোসেনকেও (২১) আসামি করা হয়েছে। এ চার্জশিটটি দ-বিধির ২৭৯ ও ৩৩৮-(ক) ধারায় দাখিল করা হয়েছে। ৩৩৮ (ক) ধারায় রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে আহত করার শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত এবং ২৭৯ ধারায় রাস্তায় অবহেলার সহিত গাড়ি চালানোয় কোনো ব্যক্তি আহত বা জখম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদ-ের বিধান রয়েছে। মামলার চার্জশিটে বলা হয়, বাস মালিক ননী গোপাল বাসটি ক্রয় করার সময় ৪৫ আসনের ছিল। পরবর্তীতে তিনি তা ৪৯ আসনে বর্ধিত করেন। বাসটি ঢাকার মহাখালী টু বি-বাড়িয়া রুটের হলেও তিনি তা সুপ্রভাত পরিবহন রুটের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন ও সেক্রেটারি মো. আশরাফকে ম্যানেজ করে সদরঘাট টু গাজীপুর রুটে চালাতেন। সুপ্রভাত পরিবহনের ব্যানারে বাস চালাতে সভাপতি ও সেক্রেটারির নিয়োজিত ব্যক্তিকে দৈনিক ১ হাজার ৩০ টাকা করে জমা দিয়ে বাসটি চালাতে হতো। চার্জশিটে আরও বলা হয়, ঘাতক বাসটির যান্ত্রিক সব বিষয়ে সঠিক ছিল। বাসটির প্রথম মালিক ছিলেন জনৈক আমিরুজ্জামান আরজু। তিনি ২০০৮ সালের ক্রয় করেন। পরে দালাল রোকনুজ্জামানের মাধ্যমে ননী গোপালের কাছে ২০১৫ সালের বিক্রি করেন। এতে আরও বলা হয়, চালকের লাইসেন্স ছিল হালকা ধরনের যান চালনার কথা। বাসটির রুট পরিবর্তন করে সদরঘাট টু গাজীপুর রুটে টাকার বিনিময়ে চালাতে দেয়ার সুযোগ তৈরি করা দেয়ার জন্য রুটের সভাপতি সালাউদ্দিন ও সেক্রেটারি আশরাফের বিরুদ্ধে রুট পারমিট বাতিলসহ অন্যান্য উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়, ননী গোপাল সরকারের ঘাতক বাসসহ ৪টি বাস রয়েছে। চালক সিরাজ ও কন্ডাক্টর ইয়াসিন ২ বছর করে তার সঙ্গে কাজ করছেন। সিরাজকে হালকা যান চালনার লাইসেন্স পাইয়ে দিতে তিনিই সহযোগিতা করেছিলেন। চলতি বছর ১ মার্চ দৈনিক ৩ হাজার টাকা দেয়া চুক্তিতে চালক সিরাজ ও মোতালেব বাসটি বুঝে নেয়। গত ১৮ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি মোতালেবের কাছ থেকে সিরাজ ১৯ মার্চ চালানোর জন্য বুঝে নেয়। বুঝে নেয়ার পর সিরাজ, ইয়াসিন ও ইব্রাহিম একসঙ্গে বসে গাঁজা খেয়ে বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকে। পরদিন ১৯ মার্চ সদরঘাটের ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সকাল ৬টায় ৬-৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি গাজীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটি গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর বাঁশতলা অতিক্রমের সময় অন্য একটি বাসের সঙ্গে পাড়া-পাড়ি করে যাত্রী তুলতে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা মুক্তাকে ধাক্কা দেয়। ওই ঘটনায় মুক্তা রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি খেয়ে আহত হয়। তখন বাসের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে চালক সিরাজকে মারধর করে ট্রাফিক পুলিশের কাছে তুলে দেয় এবং যাত্রীরা নেমে যায়। তখন কন্ডাক্টর ইয়াসিন মালিক ননী গোপালকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানালে তিনি ইয়াসিনকে বাসটি চালিয়ে দ্রুত বিশ^রোডে নিয়ে আসতে বলেন। মালিকের নির্দেশ পেয়ে লাইসেন্স না থাকার পরও সে দ্রুত বাসটি নিয়ে পালিয়ে আসার সময় যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে রাস্তার ওপর নর্দার আইকন টাওয়ারের সামনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীকে চাপা দিয়ে গুরুতর আহত করে হত্যা করে। এর পর ট্রাফিক পুলিশ বাসটি আটকের জন্য পিছু নিলে কন্ডাক্টর ইয়াসিন একটু সামনে বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়। প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় নিহত আবরারের বাবা ব্রি. জে. (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী ঘটনার দিনই মামলাটি দায়ের করেন।