advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সংসদে নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:২৭
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে নাকচ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে ‘সরকারি চাকরিতে নিয়োগে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে ৩৫ বছরে উন্নীত করা হোক’ সংক্রান্ত এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইরাক, ইরানসহ ১৫৫টি উন্নয়নশীল দেশে এ বয়সসীমা ৩৫ থেকে ৫৯ বছর পর্যন্ত করা আছে। আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখের বেশি। লেখাপড়া শিখে যখন একজন সন্তান বেকার থাকে, তখন তারা পরিবারের কাছে যে কত বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায় সেটা বাবা-মাই জানেন। আমরা এই বোঝা আর বাড়তে দিতে চাই না। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের পরিবর্তে ৩৫ বছর করা হোক। এ প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সরকারি ও বিরোধী দলের ১০ সদস্য। যদিও আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে নাকোচ হয়ে যায়। প্রস্তাবের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। তাই ২২-২৩ বছরের মধ্যে ¯œাতোত্তর ডিগ্রি লাভ করতে পারছে আমাদের তরুণরা। কাজেই তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশে সাত বছর সময় পাচ্ছে। চাকরিতে প্রবেশে এই সময় যথেষ্ট। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার বিষয়টিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। স্বাধীনতা উত্তরকালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ছিল মাত্র ২৫ বছর, পরবর্তীতে যা ২৭ বছর করা হয়। সবশেষ ৩০ বছর করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিএস পরীক্ষায় ৩০ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩২ বছর করা হয়েছে। অপর ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী যদি ২৩ বছরের একজন শিক্ষার্থী ও ৩৫ বছরের একজন একইসঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন তাহলে দুজনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য দেখা দেবে। এই অসামঞ্জস্যতার কারণে একই পদে চাকরি করার ক্ষেত্রে মনস্তাত্তিক সমস্যা হতে পারে। তাই বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব অতটা যৌক্তিক মনে হয় না। তা ছাড়া আমাদের দেশে সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর রয়েছে। পেনশনের ক্ষেত্রেও একটা নীতিমালা রয়েছে। পেনশন পেতে হলে অন্তত ২৫ বছর চাকরি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে যদি চাকরিতে প্রবেশ করতে ৩৫ বা ৩৭ বছর লেগে যায় তা হলে ৫৯ বছর থেকে ৩৭ বাদ দিলে মাত্র ২২ বছর হয়। সে ক্ষেত্রে পেনশন পেতে ঝামেলা হবে। কাজেই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শৃঙ্খলায় রাখার জন্য বর্তমান নীতিই উপযুক্ত মনে করছে সরকার। তা ছাড়া সরকার অনেক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করছে।