advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুসলমানরা আতঙ্কে

আমাদের সময় ডেস্ক
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৯ ১০:১৪

শ্রীলংকায় গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ হামলার পেছনে উগ্র মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) এবং জঙ্গি গ্রুপ আইএসের নাম আসায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটছে সেখানকার মুসলমানদের। দেশটির সরকার মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করায় এ আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

বিশেষ করে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর নেগম্বো থেকে এরই মধ্যে পালিয়েছে শত শত আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা। রয়টার্স বলছে, এমনিতে নেগম্বোতে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ছিল। কিন্তু ২১ এপ্রিলের হামলার পর থেকে সেখানকার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।

গত বুধবারও প্রতিশোধ আতঙ্কে সেখান থেকে শত শত পাকিস্তানি মুসলিম পালিয়ে অন্য শহরে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের সহায়তায় বাসে গাদাগাদি করে তারা শহর ছেড়েছে। বাসে ওঠার সময় আদনান আলী নামে এক মুসলিম জানান, নেগম্বোতে বোমা হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটার ফলে স্থানীয় শ্রীলংকানরা আমাদের বাসাবাড়িতে হামলা করেছে। তাই তিনি শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

কিন্তু এই মুহূর্তে শহর ছেড়ে তারা কোথায় যাবেন জানেন না। নেগম্বো থেকে যেসব মুসলিম পালাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই আহমদিয়া সম্প্রদায়ের। বহু আগে পাকিস্তানে আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার পর পালিয়ে এসব মানুষ শ্রীলংকায় আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা তাদের আবারও গৃহহীন হওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। অথচ এনটিজে নামে যে সংগঠটি এই হামলার জন্য দায়ী তারা সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী।

নেগম্বো ছাড়তে একটি আহমদিয়া মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ফারাহ জামিল নামে আরেক নারী বলেন, গত রবিবারের ঘটনার পর তাকে বাড়িওয়ালা তাদের বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার পালানোর অপেক্ষায় থাকা জয়নব বিবি নামে এক পাকিস্তানি নারী জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে শ্রীলংকায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু গত রবিবারের হামলার পর রাতে একদল উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে।

এ সময় জনতা তাদের অবিলম্বে শহর ছেড়ে যেতে, নয়তো মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মারধর করা হয় তার দুই সন্তানকেও। মালিক ফারহান নামে আরেক পাকিস্তানি মুসলিম বলেন, বোমা হামলার পর নেগম্বোর পরিবেশ পাল্টে গেছে। আমরা আর শ্রীলংকায় নিরাপদ নয়। যদিও এরই মধ্যে ২১ এপ্রিলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির মুসলমান নেতারা।

তারা বলছেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় শ্রীলংকার মুসলমানরা লজ্জিত, ক্ষুব্ধ এবং আতঙ্কিত। কলম্বোর মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল শূরা কাউন্সিলের কর্মকর্তা আজমান আবদুল্লাহ বলেন, ‘নানা ধরনের গুজব শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের খ্রিস্টান ভাইরা বুঝতে পারছেন যে শ্রীলংকার মুসলিমরা কোনোভাবেই তাদের ক্ষতি চায় না।’

ইতোমধ্যে শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতারা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মসজিদে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। এদিকে শ্রীলংকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কলম্বোর সব ক্যাথলিক গির্জা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল দেশটির জ্যেষ্ঠ যাজক ফাদার এডমন্ড তিলেকারতেœ এ কথা জানান বলে নিশ্চিত করেছে সিএনএন।

হামলাকারীদের একজনকে আগেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ কলম্বোর সিনামন গ্রান্ড হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালানো দুই ভাইয়ের একজন ইলহাম আহমেদ ইব্রাহিমকে আগেও একবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে শ্রীলংকার ধনাঢ্য মসলা ব্যবসায়ী ইউনুস ইব্রাহিমের ছেলে।