advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নির্দেশনা

নিজস^ প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:২৭
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে সব জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের প্রতি এ বিষয়ে সার্কুলার ইস্যু করতেও বলা হয়েছে মহাপরিচালককে। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন। অ্যান্টিবায়োটিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফসহ দেশের কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত বুধবার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। রুলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় বলে জানান আইনজীবী সায়েদুল হক। স্বাস্থ্য সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন সচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, রোগের চাহিদা ছাড়াও ফার্মেসিগুলো থেকে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এ ধরনের ওষুধ অতিরিক্ত ব্যবহারের একপর্যায়ে এসব রোগীর শরীরে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। সম্প্রতি অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করা হয়। রিটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি শরীর প্রতিরোধ গড়ে তুললে সে অবস্থাকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। এই প্রবণতার কারণে প্রতিবছর বিশ্বে সাত লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াতে পারে এক কোটিতে। পশুখাদ্য, মাছ এবং কৃষিতে অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে কৃষিতে; যা দেশে ব্যবহৃত মোট অ্যান্টিবায়োটিকের প্রায় অর্ধেক। ফলে খুব সহজেই কৃষি খাদ্যের মধ্য দিয়ে এই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের শরীর ঢুকছে। এতে একদিকে যেমন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে, তেমনি শরীরও হারাচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে সামান্য জীবাণু সংক্রমণও এখন জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে রিটে বলা হয়েছে, কৃষিখাদ্যের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করায় রাজধানীর ৫৫.৭ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অ্যাটিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মানুষের মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই ফাঁদ থেকে মানুষকে রক্ষা করা।