advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দখলমুক্ত নদীতে আবার নামবে ওয়াটার বাস

তাওহীদুল ইসলাম
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:২৭
রাজধানীর চারপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত করে তাতে আবারও ওয়াটার বাস নামানোর পরিকল্পনা করছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এর আগেও প্রায় ৫ কোটি টাকার ৬টি ওয়াটার বাস নামিয়ে দিনে ৪০ হাজার টাকা লোকসান দিতে হয়েছিল সংস্থাটিকে। এর পর বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে তারাও ব্যর্থ হয়। দুই দফায় নৌযানগুলো নামানোর পর এখন তা বন্ধ রয়েছে। আবারও এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসি বলছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তারা নতুন আঙ্গিকে আবার শুরু করতে চায়। বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর চারপাশের নদী ও এর তীর দখলমুক্ত করা হচ্ছে। নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে টানা উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এসব অভিযানে নদী ও তীর দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি। বিআইডব্লিউটিসি বলছে, নদী দখলমুক্ত হওয়ার পর চালু করা হবে দ্রুতগতির ওয়াটার বাস। আগের লোকসানের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার ছোট ও হালকা যান নামানো হবে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর সদরঘাট থেকে গাবতলী হয়ে আশুলিয়া এবং সদরঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে টঙ্গী রুটে চলবে এগুলো। এতে কেবল যাত্রী নয়, পর্যটকদেরও ঢাকার চারপাশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে। বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস আমাদের সময়কে বলেন, আগের ওয়াটারবাসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার হালকা বাহন নামানো হবে। এর গতি হবে বেশি। ফলে সময় বাঁচবে। এই বাহন হবে যাত্রী ও পর্যটকবান্ধব। অতীতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি বলছে, ১১ বছর আগে ঢাকার এই বৃত্তাকার নৌপথ চালুর সময় ধারণা করা হয়েছিল, ওয়াটার বাস বড় হলে অনেক যাত্রী একসঙ্গে বহন করা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে বেশি যাত্রী পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। এবার নতুন চিন্তা থেকে ছোট আকারের বাহন চালু করা হবে। এ জন্য শিগগির দরপত্র আহ্বান করার কথা রয়েছে। ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার এ নদীপথ সচল রাখা গেলে রাজধানীর সড়কে চাপ কমত। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি কার্যকর হয়নি। নৌ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঢাকার নৌপথ পুরনো অবয়বে ফিরিয়ে আনা হবে। সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদ দিয়ে চলাচলের জন্য ২০১০ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করে সরকার। দুটি ওয়াটার বাস নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১ কোটি টাকা। ১১ মাস যেতেই ২০১১ সালের ১০ জুন সার্ভিসটি মুখ থুবড়ে পড়ে। এর পরও সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৪টি ওয়াটার বাস নামানো হয় ২০১৩ সালের ৪ জুলাই। বছর না যেতেই এগুলোও থমকে যায়। নৌযানগুলো তৈরি করে হাইস্পিড শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। পরে দৈনিক ৪০ হাজার টাকা লোকসান দেখিয়ে সার্ভিসটি ছেড়ে দেওয়া হয় বেসরকারি মালিকানায়। কিন্তু তারাও লোকসানের কারণে বেশি দিন টিকতে পারেনি। এর পর বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকে সার্ভিসটি। লোকসানের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর আবারও ওয়াটার বাসগুলো নামায় বিআইডব্লিউটিসি। পরে আবারও ছেড়ে দেওয়া হয় বেসরকারি মালিকানায়। কিছুদিন ঢিমেতালে যাত্রী পরিবহনের পর এগুলো আর চলেনি।