advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের যে কোনো ক্ষতির দায় ভাসানচরবিরোধীদের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:২৭
বর্ষা মৌসুমে এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কক্সবাজারে ভূমিধসে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে আমরা দায়ী থাকব না। যারা ভাসনচরে নিতে বাধা দিচ্ছে, তারা এর জন্য দায়ী থাকবে। বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের তিনটি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন স্পষ্ট করে এ বার্তাই দিয়েছেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অ্যান্টনিও ভিটোরিনো এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকোক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পরে ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জোর করে কাউকে ভাসানচরে নেব না। তবে যারা যাবে তাদের জন্য একটি ভালো অবস্থান হবে। আমরা নিজের পয়সায়, ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। ওখানে গেলে পরে রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক কাজকর্ম করতে পারবেÑ মাছ ধরতে পারবে, গরু পালন করতে পারবে। এদিকে বৈঠক শেষে জাতিসংঘের তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্বীকার করেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সমস্যা পুরনো। প্রায় ৩ দশক ধরে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান এ জটিলতা চরম আকার নেয় ২০১৭ সালের আগস্টের পর আরও ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করায়। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সংস্থার প্রধান মার্ক লোকোক বলেন, বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য দেশটিকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ। আইওএম মহাপরিচালক এন্টনিও ভিটোরিনো বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান যেমন দেখতে চাই, তেমনি ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য যেন দুর্ভোগ কম হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। ইউএনএইচসিআর হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি ধীরগতির। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে জটিলতায় পড়েছে। বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের তিন সংস্থার প্রধানকে বাংলাদেশে কাজ কমিয়ে মিয়ানমারে কাজ বাড়ানোর তাগিদ দেন। মন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি আপনাদের এখানে কাজ নেই, মিয়ানমারে যান। আমি বেশ শক্তভাবে বলেছি। মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আপনারা ওখানে বেশি জোর দেন, এখানে না। আমি জিজ্ঞেস করেছি আপনারা কতবার সেখানে গিয়েছেন, সেখানে কত লোক কাজ করে। এখানে এক হাজারের বেশি লোক কাজ করে। আপনারা মিয়ানমারকে কনভিন্স করেন, যেন তারা লোক নিয়ে যায় এবং একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে ঝামেলা তৈরি করছেÑ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণ খুব আপসেট। এরা দিনে দিনে ঝামেলা সৃষ্টি করছে। আমরা বলেছি তাদের সংখ্যা এত যে তারা আমাদের বনজঙ্গল সব উজাড় করে দিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন সংস্থার প্রধানদের রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বিশ্ব জনমত তৈরির আহ্বান জনান। মন্ত্রী বলেন, এত বড় সংস্থার প্রধান আপনারা এবং বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি করতে পারেন। আমার ধারণা, জনমত তৈরি করতে পারলে সবচেয়ে বড় অত্যাচারী শাসকেরও পতন হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের অপর যে বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে ও অপরাধ সংঘটিত করেছে, তার দায় তাদের নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। আমরা তাদের বলেছি আপনাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ যেমনÑ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে বলেন মিয়ানমারকে চাপ দিতে। কারণ মিয়ানমারের বেশিরভাগ ব্যবসা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে, জাপান সেখানে বিনিয়োগ করেই চলেছে, ব্যাংকিং চালায় সিঙ্গাপুর। আপনারা সেখানে চাপ দিলে তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য। মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা তাদের বলেছি সমস্যার দ্রুত সমাধান না করা গেলে রোহিঙ্গা যুবকরা উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এখানে উগ্রবাদ হলে গোটা অঞ্চলের জন্য খারাপ হবে বলে হুশিয়ার করেছি। মন্ত্রী বলেন, এটা হলে মিয়ানমারের দুঃখ আছে। চীনের উদ্দেশ্য সেটা সফল হবে না, অর্থনৈতিক কোনো কাজ হবে না। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চায় এবং কোনো ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। মন্ত্রী বলেন, সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে, সমাধানও তাদের করতে হবে। আমরা যুদ্ধ করব না, শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই। আমাকে কেউ কেউ বলেছে, তোমরা যদি চাও তবে আমরা সেখানে কিছু একটা মহড়া করতে পারি। এরা কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অত্যন্ত পাওয়ারফুল লোক বলেছেন। এটি ব্যক্তি না দেশÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ। আমরা খুব একটা পাত্তা দিই না। তারা বলেছেন তোমরা চাইলে তোমাদের হয়ে ক্ষমতা দেখাতে পারি। আমরা বলেছিÑ না, কারণ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই। মিয়ানমার এর আগে লোক নিয়ে গেছে এবং আমরা আশাবাদী। তিন সংস্থার প্রধানদের রাখাইনে কারা অস্ত্র সরবরাহ করছে, সেটি খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কে বা কারা এর পেছনে আছে আমরা তা জানতে পারব।