advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাক্ষীর সুরক্ষা দিতে হবে

২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:৩১
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে যাদের সাক্ষ্যে একের পর এক মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার হয়েছে বা হচ্ছে, সাজা হচ্ছে, ফাঁসিও হচ্ছেÑ তারা সাহস করে সাক্ষ্য না দিলে হয়তো জাতির এই কলঙ্ক মোচন সম্ভব হতো না। সুতরাং এই সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র যদি ওই দায়িত্ব পালন না করে, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই সাক্ষীর জীবনশঙ্কা দেখা দেবে। এ রকম এক সাক্ষী মো. আওয়াল মিয়া। একাত্তরে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ওই যুদ্ধ তার আজও শেষ হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর যখন শুরু হয় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম, তখন চিহ্নিত রাজাকার মো. ফুল মিয়ার (৭৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়াল মিয়া। এর পর থেকেই তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু। নানা নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা দিন দিন এতটাই বেড়েছে যে, এখন তার জীবনই বিপন্ন হওয়ার পথে। প্রথমে তাকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হয় ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। কিন্তু সিদ্ধান্তে অটল থাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়, এমনকি গুলিও করা হয়। তারপরও কাজ না হওয়ায় তাকে অপহরণ করা হয়। স্বাধীনতার পরও ফুল মিয়া ছিল ফেরিওয়ালা। সে-ই এখন শতকোটি টাকার মালিক। এক সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদও সে বাগিয়ে নিয়েছিল। ২০০৫ সালে অবশ্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এতে তার প্রতাপ কমেনি মোটেও। বলার অপেক্ষা রাখে না, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচারে সবচেয়ে বড় সহযোগিতা করেছেন এসব মামলার সাক্ষীরা। বলতে হবে, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জাতির কলঙ্ক মোচনে সহযোগিতা করেছেন। কাজেই সাক্ষীদের আইনগত সুরক্ষা তথা তাদের নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। আমরা চাই, অবিলম্বে সরকার মো. আওয়ালের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।