advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওষুধ খেয়ে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৫১

বগুড়ার নন্দীগ্রামে শরীর মোটাতাজাকরণের ওষুধ খাওয়ানোর পর রতনা খাতুন (১৪) নামে এক কিশোরীবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মামলার ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে স্বামী ট্রাকচালক শাহাদৎ হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গতকালই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহাদৎ শেরপুর উপজেলার মহিপুর জামতলা এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার মহিপুর জামতলা এলাকার ট্রাকচালক শাহাদৎ হোসেনের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে ধুনট উপজেলার চরনাটাবাড়ি গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রতনা খাতুনের বিয়ে হয়।

বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তান প্রসবের কারণে রতনার শরীর ভগ্নদশায় পরিণত হয়। এতে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রীকে স্বাস্থ্যবতী করতে ওষুধ সেবনে বাধ্য করে স্বামী। এ অবস্থায় শেরপুর শহরের এক ফার্মেসি থেকে হারবাল জাতীয় ওষুধ (ট্যাবলেট) কেনেন শাহাদৎ হোসেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জোর করে রতনাকে ট্যাবলেট সেবন করান। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে রতনা খাতুনকে শেরপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চরনাটাবাড়ি গ্রামে বাবার বাড়ির দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে বুধবার সকাল ৬টায় ধুনট শহর এলাকায় মারা যান রতনা। এ ঘটনায় বুধবার রাতে মেয়ের বাবা গাজীউর রহমান বাদী হয়ে থানায় শাহাদৎ হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে শাহাদৎ হোসেন বলেন, সন্তান প্রসবের পর রতনা শারীরিকভাবে রুগ্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এক গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওকে শরীর মোটাতাজাকরণের ওষুধ কিনে দিয়েছিলাম। তবে ওই ওষুধ সেবনের কারণে রতনা মারা গেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিরউদ্দিন বলেন, মেয়ের বাবা বাদী হয়ে জামাতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার ভিত্তিতে শাহাদৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।