advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিচার চেয়ে মিলার আকুতি

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৩২

অল্প দিনের সংগীত ক্যারিয়ারে গানে গানে ঝড় তুলেছিলেন কণ্ঠশিল্পী মিলা। উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের বেশ কিছু গান। পপ গানের এই শিল্পীর গানের জগৎ যখন উজ্জ্বল, ঠিক তখনই ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে কালো অধ্যায়। সবাই বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয় সুখী হতে। মিলাও চেয়েছিলেন। তাই ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বৈমানিক পারভেজ সানজারিকে।

এই বিয়েটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল তার জীবনে। ২০১৭ সালের মে মাসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর গানে হয়ে পড়েন অনিয়মিত। জড়িয়ে যান সংসার জীবনের দ্বন্দ্ব-বিবাদে। কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বামী পারভেজের বিরুদ্ধে দায়ের করেন নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা। সব শেষ সংসার জীবনের ইতি টানেন পপ গানের এই শিল্পী। তার জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। মাঝে মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কণ্ঠশিল্পী স্বামীর পরিবারের নির্যাতনের কথা শেয়ার করতেন।

advertisement

কোনো উপায়ান্তর না দেখে বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজন করেন সংবাদ সম্মেলন। এই সংবাদ সম্মেলনেই মুখ খোলেন তিনি। তার সংসারে অশান্তির জন্য দায়ী করেন অভিনেত্রী নওশীনকে। গত জুনে মোবাইল ফোনে বিবাদের একটি রেকর্ড শোনান মিলা। তখনো ডিভোর্স হয়নি বলে জানান তিনি। রেকর্ডে শোনা যায়, বৈমানিক পারভেজ সানজারির সঙ্গে পরিচয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন নওশীন। এ ছাড়া শোনা গেছে, পারভেজ সানজারির সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ছবি তোলা নিয়ে নওশীনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন মিলা।

মিলার অভিযোগ, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে নওশীনের সম্পর্ক ছিল। তাদের ঘনিষ্ঠ ছবি হাতে পেয়ে নওশীনের স্বামী হিল্লোলকে জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো সাইবার ক্রাইমে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা। পরে সাইবার ক্রাইম বিভাগ থেকে আমাকে বলা হয়, এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলাই ভালো। আমার প্রশ্ন হলো, নওশীন শোবিজের মেয়ে হয়ে শোবিজেরই আরেকজনের স্বামীকে নিয়ে এমন করল, আমরা শোবিজের মেয়েরা তা হলে কোথায় যাব?’

সংবাদকর্মীদের সামনে সাবেক স্বামী বৈমানিক পারভেজ সানজারি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে ধরেন মিলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি এর বিচার চেয়েছেন। মিলা বলেন, ‘আমাকে প্রায়ই তারা (সাবেক স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা) বাসা থেকে বের করে দিত।’ এই কথা বলার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

কিছুক্ষণ পর জনপ্রিয় এই গায়িকা বলেন, ‘দুই বছর অপেক্ষা করেছি। ভেবেছি এর প্রতিকার পাব। তাই প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হইনি। কিন্তু আর পারছি না। তাই আমাকে যে অমানুষিক নির্যাতন করা হলো, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার বিচার চাই। শুধু শিল্পী নয়, ২০১১ সাল থেকে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। একজন কর্মী হিসেবেও এ দাবি আমার।’ এদিকে যে রেকর্ডটি মিলা শুনিয়েছেন সেটা ফেক দাবি করেছেন নওশীন। তিনি বলেন, ‘মিলা সংবাদকর্মীদের যে ফোন রেকর্ড শুনিয়েছে সেটা ফেক। ওটা আমার কণ্ঠ না।’

বৈমানিক পারভেজ সানজারির সঙ্গে মিলার বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে নওশীন আরও বলেন, ‘এটা পুরোপুরি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে আমাকে না জড়ানোর অনুরোধ করছি। আমাকে অপমানিত না করার অনুরোধ করছি।’ উল্লেখ্য, হিল্লোল-তিন্নির সংসার ভেঙে নওশীন বিয়ে করেন হিল্লোলকে। হিল্লোল-তিন্নির ওই সংসারে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। নাম ওয়ারিশা। অন্যদিকে নওশীনও ছিলেন বিবাহিত। নওশীন ও হিল্লোলের উগ্র আচরণ নিয়ে শোবিজ জগতে এর আগে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়।