advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পোশাক খাতে টেকসই উন্নয়নে বাধা কম মূল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০১৯ ১৪:২৫

বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম এবং পণ্যের কম মূল্যের কারণে এ খাতের উদ্যোক্তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন’ পরিপ্রেক্ষিত কনক্লেভ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি ওসামা তাসীর এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি এবং বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক ওই কনক্লেভে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধে ওসামা তাসীর বলেন, বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রায় ১৮ শতাংশ হয়ে থাকে তৈরি পোশাক খাতে, যার আর্থিক মূল্য ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য তৈরি পোশাক খাতের সব পণ্যের (প্রচলিত ও অপ্রচলিত) জন্য ৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি এ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোরারোপের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, কমপ্লায়েন্সের মান নিশ্চিত করতে না পারার কারণে গত চার বছরে প্রায় ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের দাম প্রতিবছর গড়ে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে। উপরন্তু প্রস্তাবিত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি পাবে ৬০ শতাংশ, যা পোশাক খাতের উৎপাদান ব্যয়কে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।

advertisement

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বিভিন্ন বায়িং হাউস এবং এজেন্সির মাধ্যমে পণ্য কেনার কারণে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে যথোপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না এবং ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের নিকট থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয় করেন, সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিজিএমইএর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের জন্য আমাদের সঠিক নীতিমালা গ্রহণ ও এর বাস্তবায়ন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার খুবই জরুরি। তিনি এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোক্তা-ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক-গণমাধ্যম, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ের ওপর জোরারোপ করেন।

মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, বেনজীর আহমেদ, বিজেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মীরান আলী, ইনামুল হক খান, মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এইচএনএমের প্রতিনিধি রজার, বেস্ট সেলারর সাসটেইনেবল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম, ইনডিটেক্সের মো. রেজাউল করিম ভূঁইয়্যা ও কামরুল হাসান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি হায়দার আহমদ খান, এফসিএ, বাংলা পোশাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ডিসিসিআই সহসভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক ইঞ্জি. আকবর হাকিম, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, খন্দ. রাশেদুল আহসান, কেএম এন মঞ্জুরুল হক, ইঞ্জি. মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন এবং এসএম জিল্লুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।