advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ঋণ বেড়েছে মার্চে

হারুন-অর-রশিদ
৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০১৯ ১৪:১৪
advertisement

ব্যাংকগুলোয় টাকার সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঋণ দেওয়ার মতো অর্থ নেই অধিকাংশ ব্যাংকের। আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতে ঋণ সরবারহ বাড়ছে, তবে সেই বাড়ার হার গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়া, আমানত সংগ্রহ না বাড়া এবং কিছু আইনি সীমার কারণে ঋণ বিতরণ বাড়ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছর মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। গত বছর একই মাসে যা ছিল ৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

এর আগে ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর ঋণ বৃদ্ধির হার এত কম কখনো হয়নি। ঋণ কমানোর বিষয়ে কয়েক দিন আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূলত ৩টি কারণে ঋণ বিতরণ কম হয়েছেÑ প্রথমত, ঋণের সুদহার কমানোর চেষ্টা চলছে; দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কাছে আসায় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চাহিদা কম এবং ব্যাংকগুলো কিছুটা সতর্ক ছিল; তৃতীয়ত, এডিআর সীমা লঙ্ঘিত হওয়ায় তা নিয়মের মধ্যে আসার প্রচেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, ঋণ বিতরণে বিষয়ে কিছু কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদের ঋণ বিতরণ করছে। ফলে নতুন করে আমানত না বাড়লে এমনিতেই ঋণ বিতরণের জন্য অর্থ থাকবে না। আবার খেলাপি হওয়ার কারণে ঋণের টাকা আটকে যাচ্ছে। তহবিল সংকট থাকার কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। গত বছরের শুরুতে আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করে আইনি সীমা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ ব্যাংক। এর বাইরে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়মের ঘটনাও প্রকাশ পায় ওই সময়। এতে আমানতকারীরা আস্থা হারায় ব্যাংকের প্রতি। এর ফলে আমানতের প্রবৃদ্ধি কাক্সিক্ষত হারে বাড়ছে না। এতে সৃষ্ট তারল্য সংকটের কারণে গত বছর জুলাইয়ের পর থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। জুলাইয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, আগস্টে তা ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশে নেমে আসে। এর পর সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, অক্টোবরে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, নভেম্বরে ১৪ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেসরকারি ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়। নতুন বছরেও কমতির ধারা অব্যাহত থাকে। জানুয়ারি ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এদিকে ব্যাংকগুলো তহবিল সংকট মেটাতে আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য সরকারের নির্দেশ মালিকপক্ষের বেঁধে দেওয়া সুদহার লঙ্ঘন করছে ব্যাংকগুলো।

ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ (নয়-ছয়) হওয়ার কথা। কিন্তু বড়-ছোট প্রায় অধিকাংশ ব্যাংক আমানত সংগ্রহে সুদহার সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর পরও ঋণের তুলনায় আমানতের প্রবৃদ্ধি কম। ফেব্রুয়ারিতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ হলেও আমানতের প্রবৃদ্ধি দশ শতাংশেরও কম, ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোয় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। এদিকে ব্যাংকগুলোয় এক সময় অলস্য তারল্যের পাহাড় ছিল। ঋণ বিতরণ করতে না পেরে ব্যাংকগুলো দেড় লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত অলস ফেলে রাখতে বা তুলনামূলক কম সুদে বিভিন্ন ব- কিনতে বাধ্য হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য মাত্র ৯৩ হাজার ৯২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যার বেশিরভাগই সরকারি ব্যাংকগুলোর।

advertisement