advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্থনীতিতে জাকাতের অবদান নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০১৯ ১৪:১৪

দারিদ্র্য বিমোচন ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাকাত বড় একটি ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া দেশের সর্বশ্রেণির আয়বৈষম্য কমাতেও জাকাত বড় অবদান রাখতে সক্ষম। বাংলাদেশে ৩০ হাজার কোটি টাকা জাকাত আদায়ের সম্ভাবনা থাকলেও সরকারিভাবে আদায় হচ্ছে মাত্র কয়েক কোটি টাকা। সেখানে ব্যক্তির নিজস্ব উদ্যোগে দেওয়া জাকাত বড় অবদান রাখছে না। এজন্য জাকাত আদায় ও বণ্টনে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা দরকার।

গতকাল সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) জাকাত ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) সপ্তমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করে। মেলায় ‘আয়বৈষম্য কমাতে জাকাত ও কর’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর হতে পারে। দেশের বিশাল একটি অংশ জাকাত বিষয়ে সচেতন নয়। দারিদ্র্য এর একটি অন্যতম কারণ। জাকাতের মধ্যেও দারিদ্র্য দূরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে।

advertisement

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৮ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৪ শতাংশ। আমরা তা ২০ থেকে ২১ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি। একই সঙ্গে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে, আয় বাড়ছে; এটি একদিকে ভালো। আবার কোটিপতি বা আয় বাড়ার কারণে দেশে আয়বৈষম্যও বাড়ছে। সরকারের সব প্রকল্পে দরিদ্ররা কতটুকু উপকৃত হবে তা মাথায় রাখা হয়। কর মেলা করে আমরা উপকৃত হয়েছি। জাকাত ফেয়ারের মাধ্যমে দেশ উপকৃত হতে পারে বলে জানান এমএ মান্নান। সেমিনারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশে আয়বৈষম্য ধীরে ধীরে বাড়ছে। গিনি কো ইফিসিয়েন্ট সূচক দিয়ে আয়বৈষম্য পরিমাপ করা হয়, এই সূচকের হিসাবে বাংলাদেশে বৈষম্যের মাত্রা শূন্য দশমিক ৪৮। দশমিক পাঁচ হলে অতিমাত্রার বৈষম্য রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আমরা সেই অবস্থানেই আছি।

দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য কমাতে জাকাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, করের ক্ষেত্রে যেমন অনেকে কর ফাঁকি দেয়, তেমনি অনেকে জাকাত ফাঁকি দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগে জাকাত দেওয়া হয়, কিন্তু তা টেকসই না। জাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপ দিয়ে বেশিসংখ্যক মানুষকে সাহায্য করা যেতে পারে। জাকাত আইন করা যেতে পারে। এনবিআরের মাধ্যমে জাকাত আদায় করা যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে জাকাত প্রদানকারীকে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেন অন্যান্য বক্তা। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, ইসলামী ব্যাংক কনসালটেটিভ ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান একেএম নুরুল ফজল বুলবুল প্রমুখ। দিনব্যাপী এ মেলায় বিভিন্ন ইসলামিক বই ও জাকাতভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য কয়েকটি স্টল ও জাকাতসংক্রান্ত পরামর্শ ডেস্কের ব্যবস্থা রাখা হয়।