advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টেকসই উন্নয়নে জিডিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০১৯ ১৪:২২

প্রতিবছর দেশের জিডিপি বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সমাজের বৈষম্যও। ফলে জিডিপির এ প্রবৃদ্ধি টেকসই উন্নয়নে কার্যত ভূমিকা রাখছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিউটে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমনটা জানান বক্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে অনেকে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি বলেন, যা বিস্ময়কর। এ রকম হলে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বেড়ে ৩৪ শতাংশ হতো না। অবশ্য এটা ঠিক, যে হারে বেকার বাড়ছে সেভাবে হয়তো নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধিতে শিল্প খাতের অবদান ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশ হলে সেখানে কর্মসংস্থান যে হচ্ছে না, এমন দাবি অযৌক্তিক। কেননা এই সময়ে এ শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে কোনো উচ্চমাপের প্রযুক্তির বিকাশ কলকারখানাগুলোয় দেখা যায়নি। সমাজসেবা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে এ সমিতি।

advertisement

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী খলীকুজ্জমানের সহধর্মিণী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাহেদা আহমদ। এ সময় দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনরা।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত বলেন, কাজী খলীকুজ্জমান বঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি সব সময় জোর দেন নৈতিকতা ও মানুষের সেবার ওপর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল বিষয় ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে যারা কাজ করছেন তাদের একজন খলীকুজ্জমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, যে কোনো সম্মাননা উৎসাহব্যঞ্জক। জাতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে মানুষের সমঅধিকারের কথা বলা আছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী, অবহেলিত নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করা তার অন্যতম লক্ষ্য। আর এ ক্ষেত্রে তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে। বিশেষ করে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ এ বাক্যটি তাকে বেশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।