advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পোশাক কারখানায় ২২ শতাংশের বেশি নারী যৌন হয়রানির শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০১৯ ১৪:১১
advertisement

দেশের তৈরি পোশাক কারখানায় ২২ দশমিক ৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন হয়রানির শিকার হয় বলে এক গবেষণায় জানিয়েছে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। ‘তৈরি পোশাকশিল্প কারখানায় নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানি : সংগ্রাম ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ আলোচনাসভার আয়োজন করে যৌথভাবে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এবং ‘কর্মজীবী নারী’।

আলোচনায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে, যেখানে পোশাক শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। গবেষণাটি ঢাকার মিরপুর ও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী রোডে অবস্থিত ২২টি পোশাক কারখানায় পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, তৈরি পোশাক কারখানায় যৌন নির্যাতন বলতে শতকরা ৭৯ জন নারী ও ৮২ দশমিক ৫৬ জন পুরুষ শ্রমিক মনে করে, নারীর দেহে অপ্রত্যাশিত স্পর্শই হলো যৌন নির্যাতন। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা যে ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হয়, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশ হচ্ছে কামনার দৃষ্টিতে তাকানো, সংবেদনশীল অঙ্গে কোনো কিছু নিক্ষেপ করা শতকরা ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, কাজ বোঝানোর বা কথা বলার সময় হাত-পা-শরীর স্পর্শ করা শতকরা ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

এ ছাড়া খারাপ ভাষায় গালি দেওয়া, চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকি, অশোভন অঙ্গভঙ্গি, পদোন্নতির কথা বলে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাবের বিষয়গুলোও পাওয়া গেছে গবেষণায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশনায় আছে যৌন হয়রানি সম্পর্কে শ্রমিকরা খুব কমই জানে। গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৭৯ দশমিক ৯ জন নারী শ্রমিক এবং শতকরা ৭৯ জন পুরুষ শ্রমিক এ সম্পর্কে জানে না। যারা জানে তাদের ধারণা খুব একটা স্বচ্ছ নয়। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির কারণ বিষয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অপরাধের কোনো রকম শাস্তি না হওয়া, যৌন হয়রানিকে কারখানা মালিকের পক্ষ থেকে কোনো অপরাধ বলে মনে না করা, মধ্যরাত পর্যন্ত ওভারটাইম করানো ইত্যাদি কারণে যৌন হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটছে। অন্যদিকে সামাজিক কারণ হিসেবে মনে করা হয় নারীরা দুর্বল, নারীরা প্রতিবাদ করে না। মূলত এসব কারণেই যৌন হয়রানি হয়ে থাকে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

আলোচনাসভায় জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘কেন নারী শ্রমিকরা যৌন হয়রানি সম্পর্কে অভিযোগ করেন না? কারণ হলো চাকরি হারানোর ভয়। হয়রানির শিকার মেয়েটি অপমানজনক কথা এড়িয়ে চলার জন্য অভিযোগ করেন না।’ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির সেকেন্ড সেক্রেটারি ইলভা সালস্ট্রান্ড, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক প্রমুখ।

advertisement