advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আউটপাসের অপেক্ষায় ওমানে হাজারো বাংলাদেশি

বাইজিদ আল-হাসান ওমান
৮ মে ২০১৯ ১৮:২৯ | আপডেট: ৮ মে ২০১৯ ১৮:৩০
ফাইল ছবি
advertisement

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে ফিরছে বাংলাদেশিরা।ইচ্ছা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কঠোরতা আর নিয়ম-নীতির যাতাকলে এসব বাংলাদেশিরা সেখানে আর থাকতে পারছেন না। ফ্রি ভিসার নামে অভিনব এই প্রতারণায় ফাঁদে পড়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন, আবার অনেকে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

বৈধ কাগজ না থাকায় কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মী ওমান থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কেউ মারা গেলেও শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখটি পর্যন্ত দেখতে পারছে না। বর্তমানে এসব বাংলাদেশিরা আউট পাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

দেশে ফেরার জন্য আউটপাসের অপেক্ষায় আছেন ওমান প্রবাসী বাংলাদেশি রুবেল হোসেন। কথা হয় তার সঙ্গে। দেশে যেতে পারেননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চার বছর আগে ওমানে আসি। দালালদের কথায় ভিটেমাটি বিক্রি করে ওমানে এসে দেখি আমার কাগজপত্র নাই। চল্লিশ হাজার টাকা বেতনে কাজের  কথা বলে কোনো কাজ দেয়নি। অবৈধভাবে ফ্রি ভিসায় এসে এখন পথে পথে ঘুরছি। না পাচ্ছি কোনো কাজ, না পারছি দেশে যেতে।’

আবেগাপ্লুত হয়ে রুবেল বলেন, ‘সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে ওমান এসেছি। ভেবেছিলাম পরিবারে অভাব মোচন করতে কিন্তু এখানে এসে হতাশা ছাড়া কিছুই পায়নি।শেষ পর্যন্ত আমার কী অবস্থা হবে বুঝতে পারছি না।’

ফ্রি ভিসার নামে অভিনব কায়দায় রমরমা ব্যবসা করছে মধ্যসত্তাভোগীরা।বাস্তবে এই ভিসার কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও এই ভিসার নাম করে মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে হরহামেশা ।

রুবেলের মতো হাজারও বাংলাদেশি এসেছেন মরুর দেশ ওমানে। কিন্তু দেশটিতে আসার পর কোনো কাজ না পাওয়ায় অপেক্ষার প্রহর গুণছেন আউটপাসের জন্য। আবার অনেকেই ভিটেমাটি আর ঋণ নিয়ে পরবাসে আসায় ওমান থেকে পালিয়ে দুবাই চলে গেছেন। কর্মহীন এসব বেকার শ্রমিকদের জীবন কাঁটছে অনিদ্রা আর অনাহারে।

অবৈধ-কাগজপত্রহীন এসব শ্রমিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ওমানে প্রতি মাসে ৫০-৬০ জন প্রবাসী নানা কারণে মারা যাচ্ছেন, যাদের ভেতর বেশিরভাগই হচ্ছে যুবক। কঠিন অবস্থার ভিতরে দিনাতিপাত করায় এসব শ্রমিকদের এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

কর্মকর্তারা আরো জানান, ফ্রি ভিসা কী সেটা বুঝে ওমানে আসায় এসব শ্রমিকদের এমন করুণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তারা জানান, ওমান আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জেনে বুঝে দেশটিতে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। কোনো প্রতারকের ফাঁদে পা না দেওয়ারও আহ্বান জানাচ্ছি। এসব প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ওমানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইয়াসিন চৌধুরী (সিআইপি)'র সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, `ফ্রি ভিসায় যেনো কেউ ওমানে না আসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় যদি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আউটপাসের কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ওমানের অবৈধ প্রবাসীদের সমস্যা আরো বাড়বে। সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ করব শিগগিরই আউটপাসের ব্যবস্থা করার হোক।’

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ এই দেশটিতে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে।নির্মাণ এবং আবাসন খাতে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের বেশ সুনাম রয়েছে।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কিছু প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য চুক্তিভিত্তিক কিছু ভিসা পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার সব খরচ নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠান বহন করলে। কিছু দালাল ফ্রি ভিসা বলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিদেশে নিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের বসবতি হয়ে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে কঠিন জীবনযাপন করছেন।অনেকে জেল জরিমানার ফাঁদে পড়েছেন। মূলত এ ভিসার প্রচলন আছে কাতার সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোয় এসব শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

advertisement