advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খেলাপি ও পুনঃতফসিলকৃত ঋণ আদায় বাড়াতে কৌশল গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০১৯ ১৪:১০

দুটি বড় গ্রুপের ঋণখেলাপি হয়ে যাওয়ায় গত বছর জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তবে অন্যান্য সূচকে উন্নতি ঘটেছে। চলতি বছরে খেলাপি ঋণ, অবলোপনকৃত ঋণ ও পুনঃতফসিলকৃত ঋণ আদায়ে বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছে ব্যাংকটি। গতকাল ব্যাংকটির ১২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এসব তথ্য জানান জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা।

মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এজিএমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফজলুল হক, ব্যাংকের পরিচালক খন্দকার সাবেরা ইসলাম, মসিহ্ মালিক চৌধুরী, এ কে ফজলুল আহাদ, মোহাম্মদ আবুল কাশেম, অজিত কুমার পাল, মেশকাত আহমেদ চৌধুরী, এ কে এম শামছুল আলম এবং সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আব্দুছ ছালাম আজাদ, ডিএমডি মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ ফজলুল হক, মোঃ জিকরুল হক এবং মোঃ তাজুল ইসলাম ও কোম্পানী সচিব হোসেন ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, ২০১৯ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জিডিপি অর্জনকারী পাঁচ দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার ৮.১৩ শতাংশ হতে পারে।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াটা এখন আর শুধু স্বপ্ন নয়, একটি সম্ভাবনা। তিনি বলেন, জনতা ব্যাংক কোনো প্রকার ফি/চার্জ না নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সহ নানা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকে যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৬২৫ কোটি টাকা। এ সকল দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও জনতা ব্যাংক ২০১৮ সালে ৯৭৯ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরে খেলাপি ঋণ কমিয়ে সম্পদ বাড়াতে চায়। এসএমইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ খাতে ঋণ বিতরণ করা হবে। অভ্যন্তরীণ সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে।

ব্যাংকের এমডি মোঃ আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, বৃহৎ দুটি গ্রুপভুক্ত ঋণখেলাপি হওয়ায় ২০১৮ সালে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, সরকারের নির্দেশনানুযায়ী ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কঠোর অনুশাসনের ফলে জনতা ব্যাংক অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক সূচকে ইতিবাচক সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬,৬৬৮ কোটি টাকা, যা বিগত ২০১৭ সাল হতে ৭.৫৩ শতাংশ। আমানত ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ ২২ হাজার ৪১ কোটি টাকা, রপ্তানির পরিমাণ ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা এবং রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা।

গত বছরে ব্যাংকটি শ্রেণিকৃত ঋণ হতে ৪৮৪ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত ঋণ হতে ৩৪ কোটি টাকা নগদ আদায় করেছে। তিনি বলেন, জনতা ব্যাংক কর্তৃক কর্পোরেট আয়কর বাবদ ১৪৮ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন উৎসে কর, ভ্যাট ও আবগারী শুল্ক হিসেবে সরকারি কোষাগারে মোট ৮১৪.৩৫ কোটি টাকা জমা প্রদান করা হয়েছে। কর ও প্রভিশন রাখার পর ব্যাংকটির প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।