advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘কৃষিবান্ধব দাবি করলেও তা প্রমাণ করতে পারছে না সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে ২০১৯ ১৩:১২ | আপডেট: ১৩ মে ২০১৯ ১৩:১২
advertisement

সরকার নিজেকে কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে দাবি করলেও প্রকৃত অর্থে তারা তা প্রমাণ করতে পারছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)। আজ সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে একথা জানান দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

‘রোববার টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলায় ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানখেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন কৃষক’-এ ঘটনায় বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব।

জেবেল রহমান গানি ও এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও আহার জোগানোর জন্য দিন-রাত কঠিন পরিশ্রম করতে হয় কৃষকদের। তাই অনতিবিলম্বে কৃষি ক্ষেত্রে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে কৃষককে বাঁচাতে হবে। ক্রমাগত কৃষি উপকরণ মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি কাজে মুনাফা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচটুকুও উঠে আসছে না কৃষকদের।’

তারা বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষিখাতই মূল ভূমিকা রেখেছে। এরপরও কৃষিখাতের অগ্রগতি অন্যান্য খাতের তুলনায় সন্তোষজনক নয়। কৃষির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফসলের ভরা মৌসুমে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আমন, বোরো, ইরি ধান কাটার সময় কৃষক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ধান বেঁচতে সরকারের নাগাল পাচ্ছেন না কৃষক। সব সময়ের মতোই রয়ে গেছে ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য। সরকার নিজেকে কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে দাবি করলেও প্রকৃত অর্থে তারা তা প্রমাণ করতে পারছে না। বরং সরকার কৃষকের ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৬৭ হাজার মামলা দায়ের করেছে। সরকার ন্যূনতম এই কৃষি ঋণ মওকুফ করার পরিবর্তে লুটেরাদের তারা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য তৎপরতা গ্রহণ করেছে।

জেবেল রহমান গানি ও এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, প্রায় প্রতি মৌসুমেই ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকের মধ্যে হাহাকার ওঠে। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কম দামে ফসল কিনে সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে ক্ষেত্রবিশেষে উৎপাদন খরচ তুলতেই কৃষকদের বেগ পেতে হচ্ছে। যার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, ‘ধানের দাম শুধু টাঙ্গাইলেই কম নয়; এ অবস্থা গোটা দেশে। সরকার এদিকে নজর না দিলে আমাদের কৃষি অর্থনীতি ভেঙে পড়তে মনে হয় খুব সময় নেবে না। কৃষক দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফায়দা লুটছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা।’

ন্যাপ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেন, কৃষি খাতে সহায়তা দেওয়া যায় সরকারি বাজেটের মাধ্যমে। তাছাড়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ বা সংকোচনের মাধ্যমেও সহায়তা দেয়া হয় অভ্যন্তরীণ কৃষির উৎপাদনকে। কৃষিকে সহায়তা প্রদানের সময় একটি বড় কৌশল হচ্ছে পণ্যের মূল্য সমর্থন। কৃষিপ্রধান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উল্লিখিত সব সহায়তা ও সমর্থনই কম-বেশি বিদ্যমান। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে প্রশ্ন উঠছে সহায়তা ও সমর্থনের মাত্রা নিয়ে। বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কৃষিতে ব্যয়ের পরিমাণ দিনের পর দিন নিরঙ্কুশ টাকার অঙ্কে ক্রমেই বাড়ছে; কিন্তু হ্রাস পাচ্ছে আপেক্ষিক অর্থে। কৃষিতে প্রণোদনা জোগানোর জন্য প্রদত্ত ভর্তুকির পরিমাণও আপেক্ষিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ছয় বছর আগে মোট বাজেটের ৬ শতাংশেরও বেশি ব্যয় করা হয়েছিল কৃষি ভর্তুকি খাতে। এখন তা নেমে এসেছে ২ শতাংশেরও নিচে।’

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় ধান, গম, পাট, ভূট্টা ও সবজিসহ ফসলের লাভজনক দাম, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু, খোদ কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, আসন্ন বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানো, চাল আমদানি বন্ধ, বিএডিসিকে সচল, পল্লী রেশন-শস্য বিমা চালু, পল্লী বিদ্যুত ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি, দুর্নীতি বন্ধের জোর দাবি জানান।

এ ছাড়া খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ, পুলিশি হয়রানী, জুলুম, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তার বাণিজ্য বন্ধ, কৃষকের মাঝে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিসহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

advertisement