advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পদ্মার বুকে ধু-ধু বালুচর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:২০
advertisement

ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে প্রতি বছরই কমে যাচ্ছে দেশের অন্যতম নদী পদ্মার পানি। প্রতিবছরই জাগছে নতুন নতুন চর। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মর বুক যেন শুধুই ধু ধু বালুচর। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্য নদীগুলোর ওপর। ফলে বর্ষা মৌসুমে যেমন বাড়ছে ভাঙনের প্রবণতা, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে ক্রমেই পানির অভাবে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পদ্মার অববাহিকায় থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

ভারত থেকে বয়ে আসা গঙ্গা নদী বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করে। এ নদীকে কেন্দ্র করেই এক সময় আবর্তিত হতো এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। তবে সময়ের ব্যবধানে এই নদী এখন এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৭৫ সালে ভারত এই নদীর উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর বদলে যেতে থাকে এই নদীর গতিপথ। আবার বর্ষা মৌসুমে ছেড়ে দেওয়া পানিতে একদিকে যেমন নদী ভাঙনে বিলীন হয় গ্রামের পর গ্রাম, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল শুধু ধু ধু বালু চর।

বর্তমানে একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হওয়া এই নদী যেন, মাঝে মাঝেই তাড়া করে বেড়ায় এখানকার বাসিন্দাদের। বর্ষাকালে বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, ফল-ফসলসহ সবকিছু। এ ছাড়া বিরূপ আবহাওয়ায় প্রতিবছর যেমন বাড়ছে তাপমাত্রা তেমনি, বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে এ অঞ্চল। আর নদী পানিশূন্য হওয়ায় কর্মসংস্থান হারাচ্ছে জেলে, মাঝিসহ নদী পাড়ের মানুষ। আজ ১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কার বাঁধ চালু হয়।

১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে সারাদেশের লাখ লাখ মানুষ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান থেকে মরণ বাঁধ ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেয়। দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্ভোগের জন্য তারা ওইদিন লংমার্চ করে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানায়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন ভাসানী। তাই এ দিনটি আজও শোষণ, বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং দাবি আদায়ের পক্ষে বঞ্চিতদের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে পানি দেওয়ার কথা। কিন্তু বিগত বছরে বেশিরভাগ সময়ই সেই পানি পাওয়া যায়নি। ফলে পানি ও সমতলের সর্বনিম্ন স্তরের যে ব্যবধান সেটা প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বৃদ্ধির কারণে জেলার নদীর পাড়ের যে স্থিতিশীলতা তা হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবছরই নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। আর বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় যেমন বাড়ছে তাপমাত্রা তেমনি পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সনাকের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম রেজা জানান, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক সেই লং মার্চের পর বহু সময় গড়িয়েছে। প্রতি বছর পালিত হচ্ছে ফারাক্কা দিবস। কিন্তু দিন দিন কমছে পদ্মার বুকে পানি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের অসহায়ত্ব। তাই ভারত যেন অন্যায়ভাবে অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার না করে এ দাবিটি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলতে হবে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে পানি পাওয়া যাচ্ছে। সে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার তলদেশে পলি জমতে জমতে নদীর গভীরতা কমে গেছে, তাই পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। পদ্মা নদী খনন করা গেলেও এর সুফল পাওয়া কঠিন। এ ছাড়া বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় যেমন বাড়ছে তাপমাত্রা সে ক্ষেত্রে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও কমে যাচ্ছে।

advertisement