advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ এবং রেজিস্ট্যান্স : আমাদের করণীয়

কাজী রফিকুল ইসলাম
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৮:৫৬
advertisement
advertisement

অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কুফল নিয়ে সবখানে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এ নিয়ে লিখেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম অ্যান্টিবায়োটিক হলো এমন একটি উপাদান, যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে তৈরি করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস ধ্বংস অথবা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে প্রাণীকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসার পর এর প্রত্যাহারকাল অনুসরণ না করলে মাংস, দুধ, ডিম, মলমূত্র ইত্যাদিতে অ্যান্টিবায়োটিকের যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, তাই হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ। অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ ও রেজিস্ট্যান্স এই বিশ্বায়নের যুগে এক মারাত্মক পরিস্থিতি, যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনি বা আমি কেউই রক্ষা পাব না।

এর ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশকে করতে পারে মানুষের বসবাসের অযোগ্য, সৃষ্টি করতে পারে নানা জটিল রোগব্যাধি এবং মানুষ ও পশুপাখি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সৃষ্টি করতে পারে মারাত্মক জটিলতা। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী : ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস বা তার বংশ বৃদ্ধি রোধ করতে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস অথবা কমে যাওয়ার নাম অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।

যত্রতত্র এটি ব্যবহারের করলে ব্যাকটেরিয়া তার দেহে রেজিস্ট্যান্ট জিন তৈরি করে। ফলে রেজিস্ট্যান্ট জিন বহনকারী ব্যাকটেরিয়া অন্য ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে বংশবিস্তারের মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্স ছড়িয়ে দেয়। সব ওষুধেই কার্যকারিতা হারায়। কিন্ত অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা হারানো অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানো থেকে ভিন্ন। কারণ অন্যান্য ওষুধ কার্যকারিতা হারায়, যখন মানুষের শরীরে কিছু পরিবর্তন সংঘটিত হয়। ফলে ওষুধটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর মানে হলো-অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে জীবাণুগুলোর মধ্যে পরিবর্তন হয়, জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার সামর্থ্য অর্জন করে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ে। যেমন- ধরুন, একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি তার রক্তচাপ কমাতে যে কোনো মনোথেরাপি হিসেবে একটি ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করায় তার দেহে রেজিস্ট্যান্ট তৈরি হয়।

পরবর্তীকালে ওই ব্যক্তি ডুয়েল থেরাপি এবং পরবর্তী সময় ট্রিপল থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এই ব্যক্তি যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধে রেজিস্ট্যান্ট হচ্ছে, তা দ্বারা অন্য কোনো মানুষ, পশুপাখি অথবা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না অর্থাৎ ওই ওষুধগুলো অন্য কারো দেহে রেজিস্ট্যান্ট হচ্ছে না। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া সব পৃথিবীর মানুষ, পশুপাখি এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক।

অর্থাৎ ওই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া যে কাউকে সংক্রমিত করলে সেই ব্যক্তি বা পশুপাখি ওই নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকে রেজিস্ট্যান্ট হবে। ব্যাকটেরিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট যেভাবে সৃষ্টি হয় : আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। ভাইরাসজনিত সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সাধারণ রোগের জন্য আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করি যাচ্ছি, যা একদমই ঠিক নয়।

প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে অথবা স্বল্পমাত্রায় অনিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শরীরের ক্ষতিকর জীবাণু তার নিজের জেনেটিক কোডে এমন পরিবর্তন আনে যে, সেই অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণু ধ্বংস বা তার বংশবিস্তার রোধ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মানুষের শরীরে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় না। রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় ব্যাকটেরিয়ার দেহে। ভয়ের মূল কারণ হলো-ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যে কারণে অতিঅল্প সময়ে লাখ লাখ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে।

দ্রুততম সময়ে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি এবং স্বতন্ত্র জেনেটিক উপাদান এক ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্য ব্যাকটেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার জন্যই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া যে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের একমাত্র কারণ, বিষয়টি তেমন নয়।

১৯৮৬ সালে আমেরিকার ডেলওয়ার প্রভিন্সে লেচুগুইল্লা নামে একটি হাজার বছরের পুরনো গুহা আবিষ্কৃত হয়েছে, যেখানে আগে কোনো মানুষ ও পশুপাখির পদচারণা কখনই ছিল না। সেই গুহা থেকে পাওয়া ব্যাকটেরিয়াও বর্তমান যুগের আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকে রেজিস্ট্যান্ট। অর্থাৎ প্রকৃতিগত কারণেও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি ব্যাকটেরিয়া রেজিস্ট্যান্ট হতে পারে। (বাকি অংশ পড়ুন আগামীকাল)

advertisement