advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিক্ষককে মারধর করলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা

পাবনা প্রতিনিধি
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৮:৫৩
advertisement

পরীক্ষার হলে অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এক শিক্ষককে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। বিষয়টি নিয়ে পাবনাসহ দেশজুড়ে অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আক্রান্ত ওই শিক্ষকের অভিযোগ, ছাত্রলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কলেজ সূত্র জানায়, গত ৬ মে পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে দুই পরীক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করছিলেন।

এ সময় ওই কক্ষের পরিদর্শক কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান তাদের নিবৃত্ত করতে না পেরে একপর্যায়ে খাতা কেড়ে নেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে দুপুরে মাকসুদুর রহমান কলেজ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একদল তরুণ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। সিসি টিভিতে ধারণকৃত মারধরের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি ভাইরাল হয়।

প্রহৃত শিক্ষক এ ঘটনার জন্য কলেজের ছাত্রলীগের এক নেতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ওই নেতার নির্দেশে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সে সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে বলে, ‘তুই আর কলেজে আসবি না, কলেজে এলে তোর হাত কেটে নেব। বাংলা বিভাগে আগুন ধরিয়ে দিব।’

তিনি বলেন, আমার সিনিয়র শিক্ষকরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং আমাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। এর পর আমার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছুদিনের জন্য কলেজে না যাওয়ার পরামর্শ দেন শিক্ষকরা। অভিযোগ রয়েছে অসদুপায় অবলম্বন করা ওই দুই শিক্ষার্থী পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জুন্নুনের কর্মী।

সিসিটিভির ফুটেজে হামলার সময় জুন্নুনকেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তবে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জুন্নুন বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনাস্থলে আমি শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় সহযোগী অধ্যাপক ড. কৃষ্ণেন্দু কুমার পালকে প্রধান করে এবং ড. ইসমত আরা ও সহকারী অধ্যাপক হারুনুর রশিদসহ কলেজের কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কমিটি তদন্তে ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আবদুল কুদ্দুস বলেন, অনৈতিক সুবিধা না পেলে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়- এটি নতুন নয়। কিন্তু এসব ঘটনা গোটা শিক্ষকসমাজের জন্য অপমানজনক। পাবনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক জানান, বুলবুল কলেজের বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement